ঢাকা মহানগরীর তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত সাতরাস্তা মোড়ে আজ দুপুরে কারিগরি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সরকারকে ডিপ্লোমা ও বি.এস.সি. প্রকৌশলীদের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের সুপারিশ বাতিলের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল; সময়সীমা শেষ হয়ে ৩:১০ টায় তারা সড়ক ত্যাগ করে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রতিবাদটি দুপুর ১২ টার দিকে শুরু হয় এবং প্রায় তিন ঘণ্টা অবধি মোড়টি অবরুদ্ধ রাখে। শিক্ষার্থীরা সিগন্যাল ও রোডব্লকিং সরঞ্জাম ব্যবহার করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে রাখে, ফলে সড়কের দুই পাশে গাড়ি, বাস ও সাইকেল থেমে যায়।
অবরোধের ফলে তেজগাঁও ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। চালক ও যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প রুটে মোড় নিতে বাধ্য হয়। এই অস্থায়ী ব্যাঘাতের ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোরও ক্ষতি হয়।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হল সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত নিয়োগ নীতি প্রত্যাহার করা। সংশ্লিষ্ট সুপারিশে ডিপ্লোমা ও বি.এস.সি. প্রকৌশলীদের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের অনুমোদন রয়েছে, যা শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও বেতন কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম মিশান আজ বিকেল তিনটায় অবরোধ শেষের ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে; যদি এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হয়, তবে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীরা ঢাকায় সমবেত হবে এবং কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পরের দিন (ব্রাহ্মণিক ছুটি) কোনো কর্মসূচি না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে নতুন পরিকল্পনা তৈরি হবে যদি দাবি মেনে না নেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার তানিয়া সুলতানা একই সময়ে জানান, অবরোধের প্রভাব আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি করেছে এবং গাড়ি চলাচল ব্যাহত করেছে। তিনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দলকে দ্রুত পরিষ্কার কাজ করার নির্দেশ দেন।
যাত্রী ও চালকরা এই প্রতিবাদকে অপ্রয়োজনীয় ব্যাঘাত হিসেবে উল্লেখ করে, তবে শিক্ষার্থীদের দাবি শোনার গুরুত্বও স্বীকার করেন। কিছু চালক জানান, রুট পরিবর্তন করে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারা কঠিন হয়ে পড়ে।
শিক্ষা খাতে সাম্প্রতিক সময়ে এমনই কয়েকটি প্রতিবাদ দেখা গেছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিয়োগ নীতি, সিলেবাস পরিবর্তন ও শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে দাবি তুলে ধরেছে। এই ধরনের আন্দোলন সাধারণত সরকারকে নীতি পুনর্বিবেচনা করতে প্ররোচিত করে।
সরকারের প্রস্তাবিত নিয়োগ নীতি শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের মূল কারণ হল, ডিপ্লোমা ও বি.এস.সি. স্তরের স্নাতকরা সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগ্যতা অর্জন করলে, তারা সরাসরি সিভিল সার্ভিসের উচ্চতর পদে অগ্রসর হতে পারে না, ফলে ক্যারিয়ার উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা এই নীতিকে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানকে সীমাবদ্ধ করে বলে সমালোচনা করে।
আশরাফুল ইসলাম মিশান উল্লেখ করেন, যদি সরকার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না করে, তবে আগামীকাল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং শান্তিপূর্ণ পথে দাবি উপস্থাপন করার আহ্বান জানান।
যাত্রীদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: তেজগাঁও ও তার আশেপাশের রুটে অপ্রত্যাশিত বন্ধের সম্ভাবনা থাকলে, রিয়েল-টাইম ট্রাফিক অ্যাপ ব্যবহার করে বিকল্প পথ পরিকল্পনা করা উচিৎ। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সময়সূচি আগে থেকে যাচাই করে যাত্রা পরিকল্পনা করা সুবিধাজনক।
আপনার মতে, শিক্ষার্থীদের এই ধরনের প্রতিবাদে কীভাবে সমাধান করা উচিত? আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কী ধরনের নীতি পরিবর্তন দরকার, তা নিয়ে আলোচনা করুন।



