ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের এনসিপিআই ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলা মোড়ে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় নির্বাচনী এবং মাদক সংক্রান্ত কয়েকটি মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য এই কার্যক্রমটি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
প্রচারমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে কথা বলে দেশের গণতন্ত্রের বিস্তার ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। লিফলেট বিতরণে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও হকার্স সমিতির সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যায়, যা এলাকার জনসংখ্যার বৃহৎ অংশকে কভার করে।
পাটওয়ারী বলেন, “যদি বেশি খাবার চাই, তবে বুড়িগঙ্গার পানি পান করুন, কিন্তু মাদক সেবন করবেন না।” তিনি এই রূপকটি ব্যবহার করে ভোটারদের সতর্কতা জানাতে চান যে মৌলিক চাহিদা পূরণে স্বাভাবিক উপায় বেছে নেওয়া উচিত, তবে অবৈধ পদার্থের দিকে ঝুঁকিবেন না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি কোণে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে, হকার্স সমিতির সঙ্গে যুক্ত হকার্সদের পাশে আমি থাকব।” এ কথা দিয়ে তিনি স্থানীয় হকার্সের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন এবং তাদের সমর্থনকে তার রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে মাদক ও সন্ত্রাসের প্রবেশকে গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং এই দুই দিকের সংযোগকে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্কের ফলে সামাজিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রার্থী মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “মাদক সম্রাটকে বুড়িগঙ্গার পানিতে ডুবিয়ে দেব।” এই মন্তব্যে তিনি মাদক ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা প্রকাশ করেছেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
পাটওয়ারী আশাবাদী যে ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা মাদকের সঙ্গে যুক্ত নই; একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।” এভাবে তিনি জোটের নীতি ও লক্ষ্যকে তুলে ধরেছেন এবং ভোটারদের কাছে পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে কোনো প্রকারের নির্বাচন বানচাল করা হবে না এবং ভোটারদের বিশ্বাস জোরদার করার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বিশেষভাবে ক্যাম্পেইন ফান্ডের স্বচ্ছতা ও তহবিলের উৎস যাচাইয়ের ওপর জোর দেন।
পাটওয়ারী নির্বাচন এলাকার পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তুলে বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ বিশটি বিলবোর্ড স্থাপন করতে পারে, তবে তিনি উল্লেখ করেন যে একাধিক মাদক সম্রাট শত শত বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। তিনি এই অতিরিক্ত বিলবোর্ডকে নিয়ম লঙ্ঘন এবং নির্বাচনী ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন।
বিলবোর্ডের অর্থের উৎস নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন; তা কি মাদক বিক্রির আয় নাকি চাঁদাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল, তা স্পষ্ট নয়। এই বিষয়টি তিনি তদন্তের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান।
নারীদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে তিনি কঠোর নিন্দা প্রকাশ করেন এবং বলেন, “এ ধরনের আক্রমণ সহ্য করা হবে না।” তিনি সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ এবং শিকারের সুরক্ষার ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার দাবি করেন।
পাটওয়ারী ১২ ফেব্রুয়ারি যদি কেউ নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে, তবে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করতে আহ্বান জানান। তিনি ভবিষ্যতে জোটের পার্টিগুলোকে একসাথে কাজ করে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনসাধারণের আস্থা বাড়াবে।



