গুলশানের ৯০ নং রোডে অবস্থিত বিএনপির নির্বাচনী অফিসে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিনের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে গড়ে তোলা মিথ্যা তথ্যের ব্যাপারে দলটি অভিযোগ জানায়।
মাহদী আমিন জানিয়ে বলেন, গত এক সপ্তাহের মধ্যে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অন্তত ২৯টি ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই তথ্যগুলো বিভিন্ন ফ্যাক্ট‑চেকিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে এবং সেগুলোকে ভিত্তি করে দলটি সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
বক্তা আরও বলেন, এই ভুয়া বয়ানগুলোকে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব স্বেচ্ছায় দলের কিছু নেতাকর্মী গ্রহণ করেছে। একই রকম ভাষা ও স্লোগান ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, যা তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার প্রতি আঘাত হিসেবে দেখেন।
মাহদী আমিনের মতে, বিএনপির জনপ্রিয়তা ও গণজোয়ার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীরা সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বদলে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপতথ্য ছড়ানোর নোংরা কৌশল বেছে নিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের কৌশল দলীয় ঐক্যকে ক্ষুণ্ণ করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে।
বক্তা প্রশ্ন তোলেন, কেন কোনো রাজনৈতিক দল ফ্যাসিবাদী বয়ানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার দায়িত্ব নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, জামাতের আমির চট্টগ্রামে একটি সমাবেশে বলেছেন যে কর্নেল ওলি আহমেদ প্রথমে “উই রিভোল্ট” চিৎকার করে উঠেছিলেন। এই দাবিকে তিনি ইতিহাসের বিকৃতি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
মাহদী আমিন আরও স্পষ্ট করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসে শিহরণময় এক ঘটনা রয়েছে: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন এবং তিনি প্রথমে “রিভোল্ট” চিৎকার করে অন্য সেনাদের সঙ্গে আন্দোলন শুরু করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সত্যই দেশের মানুষকে সর্বদা স্মরণে রাখতে হবে।
বক্তা উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিরোধী দলগুলো বহু শহীদ ও দেশের মায়ের রক্তে মাখা ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত ছিল। সেই দলের নেতারা যদি নিজে ইতিহাস বিকৃত করে বয়ান তৈরি করেন, তবে তা দেশের জনগণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে শোক ও হতাশা সৃষ্টি করবে।
মাহদী আমিনের বক্তব্যের পর দলীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সংশ্লিষ্ট তথ্যের উৎস ও প্রেরকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এছাড়া, ভবিষ্যতে এমন মিথ্যা বয়ান পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি ও তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি বিএনপি আইনি পথে সফল হয়, তবে এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই অভিযোগকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
বিএনপির এই পদক্ষেপের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও ঐতিহাসিক সত্যের সংরক্ষণে নতুন আলোচনার সূচনা হতে পারে। তবে, শেষ পর্যন্ত কীভাবে এই বিষয়টি আদালতে বা জনমত গঠনে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।



