ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে জাতীয় নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলো অস্বাভাবিকভাবে যাত্রী প্রবাহে বৃদ্ধি দেখছে। ঢাকা থেকে সিলেট, সাইদপুর এবং রাজশাহী সহ প্রধান রুটে যাত্রীর সংখ্যা পাঁচ থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়েছে।
এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হল শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও তাদের কর্মী দল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচার চালাতে বিমান ব্যবহার করা। দ্রুত গতি ও সময় সাশ্রয়ী হওয়ায় রোড ভ্রমণের তুলনায় বিমান ভ্রমণ অধিকতর বাস্তবিক বিকল্প হয়ে উঠেছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান এবং জামায়াত-ই-ইসলামির আমীর শফিকুর রহমান উভয়েই প্রচারমূলক সফরে রোডের বদলে বিমান বেছে নিয়েছেন। দুই নেতা সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ ও উত্তরের বেশ কয়েকটি জেলা পরিদর্শন করেছেন, যা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকে ত্বরান্বিত করেছে।
বিমান সংস্থাগুলোর মতে, সিলেট, সাইদপুর এবং রাজশাহী রুটে যাত্রী সংখ্যা সর্বোচ্চ দশ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এই রুটগুলোতে বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী ও সমর্থকদের চলাচল বাড়ার ফলে চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজশাহীতে ২৮ জানুয়ারি তারেক রহমানের র্যালে একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কারণ সেই দিন কোনো এয়ারলাইন সিট উপলব্ধ ছিল না। ফলে র্যালে পুনরায় নির্ধারিত হয় এবং প্রচার কার্যক্রমের সময়সূচি সাময়িকভাবে পরিবর্তিত হয়।
নোভোএয়ার পরিচালনা পরিচালক মোফিজুর রহমান জানান, সিলেট ও সাইদপুর রুটে চাহিদা পাঁচ থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এটিকে “জাতীয় নির্বাচনের উন্মাদনা” হিসেবে উল্লেখ করেন, যা স্বল্প সময়ের মধ্যে বিমান টিকিটের চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইউএস‑বাংলা এয়ারলাইন্সের পাবলিক রিলেশনস দায়িত্বে থাকা কামরুল ইসলাম একই রকম প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন। তিনি জানান, সিলেট ও সাইদপুর রুটে লোড ফ্যাক্টর পাঁচ থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে আসা বহু বাঙালি বিদেশি নাগরিকও নির্বাচনের সময় সিলেটে উড়ে এসে ভোটের উন্মাদনায় অংশ নিতে চেয়েছেন।
ইউএস‑বাংলা দৈনিক গড়ে ষাটটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে, যা ঢাকা থেকে ছয়টি রুটে সেবা প্রদান করে। এই ফ্লাইটগুলো নির্বাচনের আগে বিশেষভাবে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাজারে নতুন প্রবেশকারী এয়ার অ্যাস্ট্রা ও এই প্রবণতাকে অনুভব করেছে। যদিও তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি, তবে সংস্থার প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে নির্বাচনের আগের সপ্তাহে তাদের রুটে বুকিংয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই অস্থায়ী যাত্রী প্রবাহের ফলে নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে বিমান সংস্থাগুলো অতিরিক্ত সিট ও রুট পরিকল্পনা করতে পারে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য দ্রুত ও কার্যকরী প্রচার চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগকে সহজতর করবে।



