২ ফেব্রুয়ারি সোমবার জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) দেশের ১৩টি শিল্প দক্ষতা পরিষদ (আইএসসি)কে প্রায় এক কোটি টাকার মূল্যের অফিস ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম প্রদান করে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা আরও শ্রমবাজারমুখী করা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো।
এনএসডিএ শিল্প-সংযোগভিত্তিক দক্ষতা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য ধারাবাহিক কাজ করছে। আইএসসি গুলোকে সরাসরি শিল্পের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং বাস্তব চাহিদা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ মডেল গড়ে তুলতে এই সরঞ্জামগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেই দিন এনএসডিএর সম্মেলন কক্ষে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সরঞ্জামগুলো আইএসসির প্রতিনিধিদের হাতে হস্তান্তর করা হয়। সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য ‘অ্যাক্সেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনডেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন’ (ASSET) প্রকল্পের সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম. সিরাজ উদ্দিন মিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি শিল্প দক্ষতা পরিষদগুলোকে শিল্পের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়লে বাস্তব চাহিদা ভিত্তিক দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, শিল্প-সংযোগভিত্তিক একটি সমন্বিত ও টেকসই দক্ষতা উন্নয়ন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য এনএসডিএ নিরলসভাবে কাজ করছে এবং আইএসসি গুলোকে প্রয়োজনীয় অফিস ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম প্রদান তাদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
সরবরাহকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, ফটোকপি মেশিন এবং ওয়াই-ফাই রাউটার। এছাড়াও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ডিজিটাল ক্যামেরা, আইপিএস ও ইউপিএস ইউনিট, কনফারেন্স সাউন্ড সিস্টেম এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাট প্যানেলসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই সরঞ্জামগুলো আইএসসির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে, প্রশাসনিক কাজের দক্ষতা বাড়াবে এবং প্রশিক্ষণ সেশনের গুণগত মান উন্নত করবে। বিশেষ করে ডিজিটাল ক্যামেরা ও ইন্টারঅ্যাকটিভ প্যানেল ব্যবহার করে শিল্প-নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ সামগ্রী তৈরি করা সম্ভব হবে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব কাজের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিতি বাড়াবে।
প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সেক্টরভিত্তিক দক্ষতা মানদণ্ড প্রণয়ন, কারিকুলাম আপডেট এবং শিল্প-সংযুক্ত প্রশিক্ষণ মডেল বাস্তবায়নে আরও স্বচ্ছন্দ হবে। সরঞ্জামের মাধ্যমে ডেটা বিশ্লেষণ, রিয়েল-টাইম ফিডব্যাক এবং অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্মের সংযোজন সহজ হবে, যা প্রশিক্ষণের প্রাসঙ্গিকতা ও কার্যকারিতা বাড়াবে।
ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী উল্লেখ করেন, আইএসসির ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত মানদণ্ড পরিবর্তন করতে পারবে এবং কর্মসংস্থানের টেকসইতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সজ্জিত করে দক্ষতা উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করা হবে।
এনএসডিএর এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্প ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রের সমন্বয় আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা যায়। সরবরাহকৃত সরঞ্জামগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করে আইএসসি গুলো কীভাবে প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়ন করতে পারে, তা ভবিষ্যতে দেশের দক্ষতা বাজারের গঠনকে প্রভাবিত করবে।
পাঠক হিসেবে আপনি যদি কোনো শিল্প দক্ষতা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন, তবে সরবরাহকৃত প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ সামগ্রী ডিজিটালাইজেশন, অনলাইন মডিউল তৈরি এবং শিল্পের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করার পরিকল্পনা করতে পারেন। আপনার মতামত কী—এই ধরনের সরঞ্জাম আপনার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কীভাবে পরিবর্তন আনতে পারে?



