বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মচারী ও তাদের অক্ষম, অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত কর্মচারীর সন্তানদের জন্য চালু করা শিক্ষাবৃত্তির আবেদন শেষের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সোমবার বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়। আবেদনকারীদের জন্য নতুন সময়সীমা মানে অতিরিক্ত দুই সপ্তাহের সুযোগ, যা অনেক পরিবারকে সুবিধা দেবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শিক্ষাবৃত্তি তালিকা ইতিমধ্যে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে এবং আগের ঘোষণার পর থেকে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছিল। মূল আহ্বানটি ৩০ ডিসেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে সরকারি ও অ-সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীর সন্তানদের পাশাপাশি অক্ষম, অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত কর্মচারীর সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।
অধিকাংশ আবেদনকারী জানেন যে এই স্কিমের মূল লক্ষ্য হল সরকারি কর্মচারী পরিবারের আর্থিক বোঝা কমিয়ে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। তাই, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মচারী, তাদের অক্ষম, অবসরপ্রাপ্ত বা মৃত্যুবরণ করা কর্মচারীর সন্তানদের এই সুযোগ থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব। আবেদনকারীর সন্তান যদি কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকে, তবে তিনি স্কিমের অধীনে আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।
আবেদন প্রক্রিয়া ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল এবং এখন পর্যন্ত প্রায় দুই মাসের সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে নতুন ঘোষণার ফলে যারা সময়মতো আবেদন জমা দিতে পারেননি, তাদের জন্য এখনো সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদেরকে নির্ধারিত শর্তাবলী ও নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে, নতুবা আবেদন প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা থাকে।
অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে। আবেদনকারীরা eservice.bkkb.gov.bd ঠিকানায় গিয়ে প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করতে পারেন। ফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিবরণ এবং সন্তানদের শিক্ষাগত রেকর্ড সংযুক্ত করতে হবে। সব তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করা জরুরি, কারণ ভুল তথ্যের ফলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে আবেদন প্রক্রিয়ার সব ধাপই ইলেকট্রনিকভাবে সম্পন্ন হবে, তাই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি প্রস্তুত রাখা সুবিধাজনক। আবেদনকারীকে তার জাতীয় পরিচয়পত্র, সন্তানদের জন্মসনদ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি সনদ ইত্যাদি আপলোড করতে হবে। এছাড়া, অক্ষম বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেটও সংযুক্ত করতে হবে।
এই বর্ধিত সময়সীমা বিশেষত গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য বড় সান্ত্বনা। অনেক পরিবারে ইন্টারনেটের প্রবেশাধিকার সীমিত, ফলে তারা মূল সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারেনি। অতিরিক্ত দুই সপ্তাহের সময়ে তারা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে অনলাইন পোর্টালে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
একটি কাল্পনিক উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, যদি কোনো স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মচারীর সন্তান গৃহীত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় এবং তার বাবা-মা অক্ষমতার শংসাপত্র পেয়ে থাকে, তবে তারা এখন এই বর্ধিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করে আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। এই ধরনের সহায়তা টিউশন ফি, বইপত্র এবং অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রীতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
আবেদন করার সময় কিছু ব্যবহারিক টিপস মাথায় রাখা দরকার। প্রথমে সমস্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের ডিজিটাল কপি প্রস্তুত করুন এবং ফাইলের সাইজ সীমা মেনে রাখুন। দ্বিতীয়ত, ফর্ম পূরণ করার সময় তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করুন, বিশেষ করে পরিচয় নম্বর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোড। তৃতীয়ত, ফর্ম জমা দেওয়ার পর নিশ্চিতকরণ ইমেইল বা এসএমএস সংরক্ষণ করুন, যাতে পরে কোনো সমস্যায় রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
শেষে, আবেদনকারীদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায় যে শেষ তারিখের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই, সময়মতো ফর্ম পূরণ এবং জমা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই শিক্ষাবৃত্তি স্কিমটি দেশের সরকারি কর্মচারী পরিবারের শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, এবং বর্ধিত সময়সীমা তাদের জন্য একটি মূল্যবান সুযোগ প্রদান করে।



