১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা জাতীয় নির্বাচনের জন্য কক্সবাজার-৪ আসনের ভোটের পরিস্থিতি জানার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে পর্যবেক্ষকগণ পৌঁছেছেন। দলীয় প্রতিনিধি গোষ্ঠী ভ্রমণ শুরু করার আগে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দুইটি প্রধান আলোচনা শোনা যায়। প্রথমটি হল, রিকশা, ভ্যান, অটো চালক ও দিনমজুরের মতো নিম্ন আয়ের ভোটারদের সঙ্গে কথোপকথনে এক দলীয় সমর্থনের প্রবণতা বেশি শোনা যায়; অন্যটি হল, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে কি না নিয়ে শিক্ষিত ও পেশাদার গোষ্ঠীর মধ্যে সন্দেহের ছায়া।
এই দুইটি আলোচনা নির্বাচনের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে আরও তীব্রতা পায়। নিম্ন আয়ের ভোটারদের মধ্যে কোন দলকে সমর্থন করা হবে তা নিয়ে অনুমান ও জল্পনা চলতে থাকে, আর শিক্ষিত গোষ্ঠীর মধ্যে ভোটের তারিখের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সময়ে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র সংঘাতের অবনতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে, কারণ সীমান্তে গুলি কখনো কখনো বাংলাদেশের নাগরিকের প্রাণে আঘাত হানেছে।
মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সশস্ত্র সংগ্রাম এবং রাখাইন অঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে নিয়মিত গুলিবর্ষণ সীমান্ত পারাপারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অঞ্চলের বাসিন্দারা ক্রমাগত আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করে, এবং কিছু বিশ্লেষক মনে করেন যে সংঘাতের তীব্রতা বাড়লে তা বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, কিছু লোক ভোটের ফলাফল নিয়ে ষড়যন্ত্রের ধারণা পোষণ করে, যদিও এসব মতামত কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে নয়।
উখিয়া ও টেকনাফে পৌঁছানোর পর এই ধরনের উদ্বেগের তীব্রতা কিছুটা কমে যায়। স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি এবং সীমান্তে সাময়িক শাটডাউনের ফলে গুলিবর্ষণের ঘটনা কমে যাওয়ায় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করে। তবে, শাহপরীর দ্বীপে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ভোটের বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দ্বীপে নাফ নদীর দুপাশে গঠিত দুটি ছোট্ট গ্রামকে কেন্দ্র করে একাধিক ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে উচ্চ।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে রিকশা চালক, দিনমজুর, ছোট ব্যবসায়ী এবং কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ একত্রিত হয়েছে। ভোটদান প্রক্রিয়া সময়মতো শুরু হয় এবং কোনো বড় প্রযুক্তিগত সমস্যার প্রতিবেদন নেই। নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিয়োজিত দলগুলো ভোটকেন্দ্রের চারপাশে পর্যাপ্ত উপস্থিতি বজায় রাখে, ফলে ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কমে যায়।
স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, ভোটের সময়সূচি অনুযায়ী সব ভোটকেন্দ্র সুষ্ঠুভাবে কাজ করেছে এবং কোনো দেরি বা অস্বাভাবিক ঘটনা রেকর্ড করা হয়নি। ভোটের পরিসংখ্যান সংগ্রহের জন্য প্রাথমিক ফলাফল দ্রুত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পাঠানো হবে, যা পরবর্তী গণনা প্রক্রিয়ার ভিত্তি গঠন করবে।
শাহপরীর দ্বীপের ভোটের ফলাফল কক্সবাজার-৪ আসনের সামগ্রিক সমন্বয়কে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ এই আসনটি পূর্বে দু’দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ফলাফল যদি কোনো এক দলকে স্পষ্ট সংখ্যায় অগ্রগতি দেয়, তবে তা জাতীয় পর্যায়ে পার্টি গঠনের গতি পরিবর্তন করতে পারে।
আসন্ন গণনা পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকার পর্যবেক্ষণ দল পাঠাবে এবং ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য বিরোধ বা আপত্তি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেবে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে সকল প্রার্থী ও পার্টি গঠনমূলকভাবে ফলাফল গ্রহণের জন্য প্রস্তুত, যাতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
এই ভ্রমণের মাধ্যমে দেখা যায়, টেকনাফের দূরবর্তী শাহপরীর দ্বীপেও ভোটের প্রক্রিয়া মূলধারার মতোই সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে, এবং সীমান্তের নিরাপত্তা উদ্বেগের তুলনায় ভোটের বাস্তবিক চিত্র বেশি স্পষ্ট। ভবিষ্যতে মিয়ানমারের সংঘাতের অবস্থা যদি স্থিতিশীল হয়, তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোটের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়।



