আজ সর্বোচ্চ আদালতের অ্যাপেলেট বিভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় শোনা যায়। বিএনপি প্রার্থী অস্বালম চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে ভোটের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। রায়টি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময়সূচি ও ফলাফল প্রকাশের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
তবে আদালত একই সঙ্গে নির্দেশ দেয় যে, চট্টগ্রাম-৪ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে না যতক্ষণ না উচ্চ আদালতে দায়ের করা আপিলের নিষ্পত্তি হয়। আপিলটি উচ্চ আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে, যা অস্বালমকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
অ্যাপেলেট বিভাগ জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী মোঃ অন্বর সিদ্দিকেরও আপিল প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। অন্বরের আইনজীবী মওহাম্মদ হোসেন লিপু উল্লেখ করেন যে, অস্বালমের ওপর ২৩টি ব্যাংক থেকে মোট ২,১০০ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে, তবুও নির্বাচন কমিশন তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
অন্বরের আপিলের মূল দাবি হল নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ করা। তিনি পূর্বে উচ্চ আদালতে একটি রিট লিখে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন, যা উচ্চ আদালত প্রত্যাখ্যান করে এবং পরে অ্যাপেলেট বিভাগে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।
অ্যাপেলেট বিভাগের পূর্ণ বেঞ্চ, যার প্রধান ছিলেন চিফ জাস্টিস জুবায়ের রহমান চৌধুরী, আজকের শুনানির পর রায় প্রদান করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উভয় প্রার্থীর আপিলের বিষয়বস্তু যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে এবং চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নিষ্পত্তি প্রয়োজন।
অস্বালম চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মোঃ রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান এবং ব্যারিস্টার কাজি আখতার হোসেন। অন্যদিকে, মোঃ অন্বর সিদ্দিকের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন এবং অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন পাটওয়ারি উপস্থিত ছিলেন।
এই রায়ের ফলে চট্টগ্রাম-৪ আসনে ভোটের গণনা ও ফলাফল ঘোষণার সময়সূচি অনিশ্চিত রয়ে যায়। আদালতের নির্দেশ অনুসারে, আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না, ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর প্রশ্ন তোলা হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত বাধা ছাড়া অস্বালমকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, উভয় প্রার্থীর আইনজীবীরা আপিলের পিটিশনকে শক্ত করে তোলার জন্য অতিরিক্ত নথি ও প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন। আদালত যদি আপিল প্রত্যাখ্যান করে, তবে অস্বালমের অংশগ্রহণ রদ হবে এবং ফলাফল প্রকাশ করা যাবে। অন্যথায়, ফলাফল প্রকাশের আগে আপিলের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, আজকের রায় অস্বালম চৌধুরীর চট্টগ্রাম-৪ নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে, তবে ফলাফল প্রকাশের জন্য আপিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে। জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী মোঃ অন্বর সিদ্দিকের আপিলও একই সময়ে বিবেচনা করা হবে, যা আসন্ন নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



