বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি জানুয়ারি মাসে প্রায় $4.41 বিলিয়ন রেকর্ড করেছে, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় 0.50 শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান এক্সপোর্ট প্রোমোশন ব্যুরোর (EPB) তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। রপ্তানির সামগ্রিক গতি স্থিতিশীল থাকলেও, আন্তর্জাতিক পোশাক খুচরা বিক্রেতাদের অর্ডার দেরি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ধীর পুনরুদ্ধার বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।
বছরের তুলনায় রপ্তানি সামান্য কমে $4.41 বিলিয়ন থেকে 0.50 শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা বাজারের সতর্ক মনোভাবের প্রমাণ। যদিও মোট রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে, তবে এই পতন পূর্বের ধারাবাহিক হ্রাসের ছয়তম মাসের পরেও সীমিত রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পূর্বে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো অর্ডার কমিয়ে রাখে, ফলে রপ্তানির গতি স্বল্পমেয়াদে প্রভাবিত হয়।
মাসিক ভিত্তিতে জানুয়ারি রপ্তানি ডিসেম্বরের $3.96 বিলিয়ন থেকে 11.22 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে $4.41 বিলিয়নে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি নির্দেশ করে যে, বছরের শেষের দিকে অর্ডার প্রবাহে কিছুটা পুনরুজ্জীবন ঘটেছে। তবে এই অস্থায়ী উত্থান দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা গঠন করতে পারে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত।
বছরের প্রথম সাত মাসে, অর্থবছরের মোট রপ্তানি $28.41 বিলিয়নে নেমে এসেছে, যা পূর্ববছরের একই সময়ের তুলনায় 1.93 শতাংশ কম। এই হ্রাসের পেছনে বিশ্ববাজারের চাহিদা হ্রাস এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। ফলে, রপ্তানির মোট পরিমাণে সামান্য হ্রাস দেখা গেছে, যদিও মাসিক পরিবর্তন ভিন্ন রকম।
ফিসিক্যাল ইয়ার ২০২৬-এর জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত গার্মেন্টস রপ্তানি $22.98 বিলিয়নে নেমে 2.43 শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে নিটওয়্যার রপ্তানি $12.28 বিলিয়নে নেমে 3.13 শতাংশ কমেছে, আর বুনো গার্মেন্টস শিপমেন্ট $10.69 বিলিয়নে নেমে 1.60 শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই সংখ্যা গুলো গার্মেন্টস সেক্টরের মূল শক্তি হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। তদুপরি, নিটওয়্যার ও বুনো গার্মেন্টসের পৃথক হ্রাস বাজারের বৈচিত্র্য ও চাহিদার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য এর সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইনামুল হক খান উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের পূর্বে আন্তর্জাতিক রিটেইলার ও ব্র্যান্ডগুলো পূর্ণ অর্ডার না দেওয়াই স্বাভাবিক। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, নির্বাচনের পর অর্ডার প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা যায়। এই মন্তব্য রপ্তানি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা সম্পর্কে শিল্পের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার উৎপাদক ও রফতানিকার এর সভাপতি মোহাম্মদ হাটেমের মতে, ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর রিটেইলার ও ব্র্যান্ডগুলো অর্ডার বাড়াতে শুরু করলে জুন থেকে রপ্তানি শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি এই সময়কে বাজারের পুনরুজ্জীবনের মূল মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই পূর্বাভাস শিল্পের পরিকল্পনা ও উৎপাদন শিডিউলকে প্রভাবিত করবে।
গ্লোবাল সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্ক নীতি বহু দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে রপ্তানির পরিমাণে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই শুল্ক নীতি আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ডের অর্ডার পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা যোগ করেছে। ফলে, বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে।
সামগ্রিকভাবে, রপ্তানি পরিসংখ্যানের সাময়িক স্থিতিশীলতা সত্ত্বেও, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের নির্বাচনী চক্র রপ্তানির গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিল্প সংস্থা গুলো অর্ডার প্রবাহের পুনরায় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বাভাবিকীকরণে মনোযোগ দেবে। ভবিষ্যতে রপ্তানি পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা ও শুল্ক নীতির পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।



