ওস্লো জেলা আদালতে মঙ্গলবার থেকে সাত সপ্তাহের একটি মামলার সূচনা হয়েছে, যেখানে নরওয়ের রাজকুমারী মেটে-মারিটের পুত্র মারিয়াস বর্গ হোইবি অপরাধের অভিযোগে বিচারিত হচ্ছেন। ১.৫ বছর আগে ওস্লোর এক মহিলার বাড়িতে ঘটিত হিংসাত্মক ঘটনার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল; এখন একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাটি শুরু হওয়ার আগের রাতে ২৯ বছর বয়সী মারিয়াসকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়, যেখানে তাকে আক্রমণ, ছুরি দিয়ে হুমকি দেওয়া এবং রেস্ট্রেইনিং অর্ডার লঙ্ঘনের সন্দেহে আটক করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারটি তার প্রথম গ্রেফতারকালের মতোই শর্তে করা হয়েছে, যা মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ তাকে চার সপ্তাহের জন্য জামিন না দিয়ে রিম্যান্ডে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে তিনি জেলখানায় থেকেই মামলায় অংশ নেবেন। তার রক্ষা দল এই রিম্যান্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে মুক্তি পাওয়ার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।
আদালতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে; মারিয়াসের ছবি তোলা বা প্রকাশ করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া, মামলায় উল্লেখিত চারজন মহিলার পরিচয় প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই, যাতে তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়। এই ধরনের সীমাবদ্ধতা নরওয়ের বিচার ব্যবস্থার গোপনীয়তা রক্ষার প্রচলিত নীতি অনুসরণ করে।
রাজপরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত হবে না। একই সময়ে রাজা হারাল্ড ভি এবং রাণী সোনিয়া ইতালিতে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকের জন্য রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা দেশের মিডিয়ায় অতিরিক্ত মনোযোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজপরিবারের এই বিচ্ছিন্নতা, বিশেষ করে হোইবির মামলায়, ক্রাউন প্রিন্স হাকনের স্ত্রীর সৎ পুত্রের অবস্থানকে আরও আলাদা করে তুলেছে।
মেটে-মারিটের বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, তিনি মৃত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে বিস্তৃত যোগাযোগ রেখেছিলেন। তিনি এই বিষয়টি স্বীকার করে ‘দুর্বল বিচার’ করার কথা উল্লেখ করেছেন, তবে এর ফলে একাধিক সংস্থা তার পৃষ্ঠপোষকত্ব থেকে তাকে বাদ দিয়েছে। এই ঘটনা তার জনমতকে আরও কঠিন করে তুলেছে এবং রাজপরিবারের সুনামকে প্রভাবিত করেছে।
মারিয়াস বর্গ হোইবি, মেটে-মারিটের সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্সের বিবাহের চার বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও তিনি পরিবারে ঘনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে বিবেচিত, তবু তিনি রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সদস্য নয় এবং জনসাধারণের পরিচিতি সীমিত। তার এই অবস্থানই মামলাটিকে নরওয়ের সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় রায়ের বিষয় করে তুলেছে।
রক্ষা দলের মতে, মারিয়াস বেশিরভাগ অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন না এবং তিনি যে ঘটনাগুলোর সঙ্গে যুক্ত, সেগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে আদালতে তার বিরুদ্ধে রেপেড অভিযোগের পাশাপাশি যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে, যা এখনও তদন্তাধীন।
মামলাটি নরওয়ের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও রাজার পরিবারে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া দেশের মিডিয়া ও জনমতকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাবিত করবে।



