গত সপ্তাহে রেকর্ড শীর্ষে পৌঁছানো সোনার ও রূপার দাম এই সপ্তাহের শুরুর দিকে তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। সোনা এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ $5,580‑এর উপরে পৌঁছানোর পর শুক্রবার প্রায় ৯% হ্রাস পেয়ে $5,070‑এর কাছাকাছি নেমে আসে, আর সোমবার অতিরিক্ত ৩.৩% কমে $4,545‑এ স্থিত হয়। রূপা একই সপ্তাহে $121.64‑এর রেকর্ড স্তরে পৌঁছায়, তবে পরের দিনই প্রায় তৃতীয়াংশের বেশি হ্রাস পেয়ে সোমবারে $72‑এর কাছাকাছি নেমে আসে।
সোনার দাম বৃহস্পতিবার রেকর্ড স্তরে পৌঁছানোর পর শুক্রবার একদিনে বছরের সবচেয়ে বড় পতন দেখায়, যেখানে মূল্য প্রায় ৯% কমে যায়। এই পতনের পরের দিনেও বিক্রয় অব্যাহত থাকে, এবং সোমবারের শেষ পর্যন্ত মোট হ্রাস প্রায় ১২% হয়। সোনার দাম $4,545‑এ স্থিত হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য পুনরুদ্ধার দেখা যায়, তবে সামগ্রিক প্রবণতা এখনও নিম্নমুখী।
রূপার ক্ষেত্রে, বৃহস্পতিবার রেকর্ড $121.64‑এর পর দ্রুত পতন শুরু হয় এবং সোমবারে মোট প্রায় ৪১% হ্রাস পেয়ে $72‑এর কাছাকাছি নেমে আসে। রূপার এই তীব্র পতনটি এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় শেয়ার হ্রাস হিসেবে রেকর্ড হয়। যদিও সোমবারের শেষ দিকে কিছু পুনরুদ্ধার দেখা যায়, তবে দাম এখনও রেকর্ড স্তরের থেকে অনেক নিচে।
দাম হ্রাসের পেছনে বেশ কয়েকটি গ্লোবাল কারণ কাজ করেছে। প্রধান অর্থনীতিগুলিতে মুদ্রাস্ফীতি অব্যাহত থাকা, যুক্তরাষ্ট্র‑চীন বাণিজ্য উত্তেজনা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত পরিকল্পনা, রাশিয়া‑ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি নিরাপদ সম্পদে চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে। এই ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সোনার ও রূপার দিকে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার হ্রাসের প্রত্যাশা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চালক। সুদের হার কমলে ডলারের মান দুর্বল হয়, যা ঐতিহ্যগতভাবে সোনার চাহিদা বাড়ায়। তবে হারের হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে অতিরিক্ত আশাবাদ গড়ে ওঠা শেষ পর্যন্ত বিক্রয় চাপকে বাড়িয়ে দেয়।
অপশন বাজারের গতিবিধিও দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। কল অপশন ক্রয়ের তীব্রতা বিক্রেতাদেরকে সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে শারীরিক সোনা কেনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে, ফলে বাজারে ক্রয় চক্র গড়ে ওঠে। এই স্বয়ংক্রিয় হেজিং প্রক্রিয়া দামকে রেকর্ড স্তরে নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু একই সময়ে হঠাৎ বিক্রয়েও সহায়তা করে।
রূপার ক্ষেত্রে স্পেকুলেটিভ ট্রেডিং এবং শিল্প চাহিদার প্রত্যাশা দামকে উঁচুতে ঠেলে দেয়। ইলেকট্রনিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং পরিষ্কার শক্তি উৎপাদনে রূপার ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদেরকে আকৃষ্ট করেছে। একই সঙ্গে চীনের অভ্যন্তরে স্পেকুলেটিভ মূলধনের প্রবাহ সরবরাহ সংকুচিত করে দামকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
বাজারের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এখন সতর্কতা ও অস্থিরতার মধ্যে। মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি স্পষ্টতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা শমনের দিকে অগ্রসর হলে দাম স্থিতিশীল হতে পারে, তবে কোনো নতুন ঝুঁকি উদ্ভব হলে পুনরায় তীব্র ওঠানামা দেখা দিতে পারে। বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমান পরিবেশে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।



