28 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হ্রাসে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি প্রকাশিত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হ্রাসে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি প্রকাশিত

মার্কিন সরকার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক ৫০% থেকে ১৮% কমানো হয়েছে, যা এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে স্বস্তির সঞ্চার করেছে। যদিও চুক্তির নির্দিষ্ট শর্তগুলো এখনও স্পষ্ট নয়, এই পদক্ষেপটি বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তাকে কমাতে লক্ষ্যবদ্ধ।

গত বছর আগস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশে ভারতীয় পণ্যের শুল্ক ২৫% থেকে ৫০% বাড়ানো হয়েছিল, কারণ দিল্লি রাশিয়ার সস্তা তেল ক্রয় করে ইউক্রেনের যুদ্ধকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে। এই উচ্চ শুল্কের ফলে ভারত বিশ্বে সর্বোচ্চ শুল্কের শিকার হয়ে পড়ে।

সোমবার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মোদি রাশিয়ান তেল ক্রয় বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্য ভেনেজুয়েলা থেকে বেশি তেল আমদানি করবেন। এই মন্তব্যের ওপর ভারত সরকার কোনো সরাসরি মন্তব্য করেনি।

এরপর নরেন্দ্র মোদি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ১.৪ বিলিয়ন ভারতীয় নাগরিকের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে দুই দেশের অংশীদারিত্বকে ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী উচ্চতা’তে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যিক নীতি পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল; টেক্সটাইল, সি-ফুড, গহনা ইত্যাদি খাতে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছিল। শুল্কের চাপ দিল্লিকে অন্যান্য বাণিজ্য চুক্তি ত্বরান্বিত করতে এবং রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্য করতে বাধ্য করেছিল।

গত সপ্তাহে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘মাদার অফ অল ট্রেড ডিল’ নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে ৮০-৯০% পণ্যের শুল্কমুক্তি ঘোষণা করে। এটি দিল্লির চার বছরে নয়টি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মধ্যে একটি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অগ্রগতি ধীরগতিতে চলছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হ্রাসের ঘোষণাকে ভারতীয় শিল্পক্ষেত্র ব্যাপকভাবে স্বাগত জানায়। রপ্তানি সংস্থা ও উৎপাদনকারীরা আশা প্রকাশ করে, নতুন শুল্ক কাঠামো রুপি, শেয়ার বাজার ও সুদের হারকে স্থিতিশীল করবে।

ফান্ড ম্যানেজার নিলেশ শাহ উল্লেখ করেন, শুল্কের অনিশ্চয়তা রুপি অবমূল্যায়ন, বাণিজ্য ঘাটতি এবং বিদেশি মূলধনের প্রস্থানকে ত্বরান্বিত করেছিল। ১৮% শুল্কে হ্রাস পেলে ভারতীয় পণ্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সমান অবস্থানে আসবে।

বছর শেষে রুপি মানের পতন, বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগের হ্রাসের পেছনে শুল্ক নীতি একটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নতুন শুল্ক হার সমকক্ষ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে, মুদ্রা বাজারে অতিরিক্ত চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য দু’দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়গুলোকে শুল্ক তালিকা, পণ্যের মানদণ্ড এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিশদ চূড়ান্ত করতে হবে। যদিও শর্তগুলো এখনও অমীমাংসিত, উভয় পক্ষই দ্রুত সমঝোতা সম্পন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, শুল্ক হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের জন্য ভারতীয় উৎপাদনকারীদের গুণগত মান ও সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নত করতে হবে। না হলে সুবিধা সীমিত থেকে যাবে।

সামগ্রিকভাবে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হ্রাসের পদক্ষেপ ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত, তবে চুক্তির বাস্তবিক প্রভাব নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনার ফলাফলের ওপর।

শুল্ক হ্রাসের ফলে টেক্সটাইল শিল্প বিশেষভাবে উপকৃত হবে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় কাপড়ের চাহিদা পূর্বে শুল্কের ভারে কম ছিল। একইভাবে সি-ফুড, বিশেষত ইলিশ ও চিংড়ি, এবং গহনা রপ্তানির ওপরও ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশিত।

ডিলের আগে দিল্লি অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন করেছিল, যা রপ্তানি দিক পরিবর্তনে সহায়তা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি না থাকায় শিল্পগুলো এখনও অনিশ্চয়তার মুখে ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ৮০-৯০% পণ্যের শুল্কমুক্তি ঘোষণা করা হলেও, তা সম্পূর্ণ কার্যকর হতে এখনও কিছু নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন। এই চুক্তি ভারতীয় রপ্তানিকে ইউরোপীয় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করতে লক্ষ্য রাখে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শুল্ক হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments