ওয়্যারসাইডে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সান্ডারল্যান্ড ৩-০ দিয়ে বার্নলিকে পরাজিত করে, যেখানে হাবিব দিয়ার্রা দুই গোল এবং চেমসদিন তালবি একটি চমকপ্রদ গোলের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করেছে। এই জয় বার্নলির ধারাবাহিক ১৫ ম্যাচের জয়হীনতা বাড়িয়ে দেয় এবং দলকে ১৯তম স্থানে রেখে, নিরাপত্তা থেকে ১১ পয়েন্টের ফাঁক তৈরি করে।
গত মাসে রাবাতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে দিয়ার্রা এবং তালবি একে অপরের বিপক্ষে খেলেছিলেন; সেনোগাল মরক্কোকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল। দিয়ার্রা সাসপেনশনের কারণে শুরুতে খেলতে পারেননি, আর তালবি ম্যাচে অপ্রয়োগিত সাবস্টিটিউট ছিলেন।
এখন দুজনই সান্ডারল্যান্ডের সহকর্মী এবং ম্যাচে তাদের অবসাদকে মাঠে রূপান্তরিত করে বার্নলির ওপর আক্রমণ চালায়। দিয়ার্রা প্রথম গোলের প্রস্তুতিতে ব্রায়ান ব্রোবি সঙ্গে এক-দুই পাসের পর শট নেন, যা অক্ষেল টুয়ানজেবের ডিফ্লেকশনে মার্টিন ডুব্রাভকার গলপোস্টে গিয়ে বার্নলির প্রাক্তন নিউক্যাসল গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করে।
এরপর দিয়ার্রা আবার গোল করেন, ফলে তার স্কোরবোর্ডে দুইটি গোল যুক্ত হয়। তৃতীয় গোলটি চেমসদিন তালবির দৃষ্টিগোচর হয়; তিনি দূর থেকে শক্তিশালী শট মারেন, যা বার্নলির রক্ষণে বড় ধাক্কা দেয় এবং সান্ডারল্যান্ডকে তৃতীয় গোলের সুবিধা দেয়।
বার্নলির পারফরম্যান্সের ওপর সমালোচনা তীব্র হয়। প্রাক্তন ইংলিশ ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকার বললেন, “বার্নলির খেলা ভয়ানক, তারা প্রত্যাশার চেয়ে কম দেখিয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সান্ডারল্যান্ড আমাদের চেয়ে বেশি ইচ্ছা দেখিয়েছে।” সান্ডারল্যান্ডের কোচ স্কট পার্কারও একই রকম মত প্রকাশ করেন, “আমাদের দলটি শিশুসুলভ দেখাচ্ছিল, কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা মৌলিক দিকগুলোতে ব্যর্থ হয়েছি এবং সব দিকেই নিষ্ক্রিয় ছিলাম।” তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে কঠিন বলে উল্লেখ করেন।
সান্ডারল্যান্ড বর্তমানে লিগে অষ্টম স্থানে রয়েছে এবং ইউরোপীয় কোয়ালিফিকেশনের কাছাকাছি রয়েছে, তবে তারা পূর্বের ম্যাচে ওয়েস্ট হ্যামকে ৩-১ দিয়ে হারিয়েছিল। ঐ পরাজয়টি গ্রানিট ঝাকার অনুপস্থিতি এবং দলীয় ক্যাপ্টেনের গোড়ালির আঘাতের সঙ্গে ঘটেছিল, যা ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।
বার্নলি এখন ১৯তম স্থানে রয়েছে, ধারাবাহিক ১৫টি ম্যাচে কোনো জয় না পেয়ে নিরাপত্তা থেকে দূরে সরে গেছে। দলের বর্তমান অবস্থা কঠিন, এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট সংগ্রহ না করলে অবনতি অব্যাহত থাকতে পারে।
সান্ডারল্যান্ডের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে এবং পরবর্তী ম্যাচে ইউরোপীয় স্থান অর্জনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যদিকে বার্নলির জন্য এই পরাজয় একটি সতর্ক সংকেত, যা দলকে পুনর্গঠন এবং মৌলিক দিকগুলোতে মনোযোগ দিতে বাধ্য করবে।



