ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফ্যান্টিনো গত মাসের ড্যাভোস বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ফোরামে করা একটি মন্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় কোনো ব্রিটিশ ভক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি, যা তিনি একটি হালকা মেজাজের মন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। এই বক্তব্যের পরই তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বলেন, তার ইচ্ছা ছিল কাতার টুর্নামেন্টকে শান্তিপূর্ণ উদযাপন হিসেবে তুলে ধরা।
ফুটবল সমর্থক সংস্থা (FSA) এই মন্তব্যকে ভক্তদের প্রতি ‘সস্তা’ রসিকতা হিসেবে সমালোচনা করেছে। যুক্তরাজ্যের ফুটবল পুলিশ প্রধান মার্ক রবার্টসও মন্তব্যের যথার্থতা ও সহায়কতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ পূর্বে ও পরে টুর্নামেন্টে ভক্তদের সঙ্গে ঘটিত ঘটনার রেকর্ড রয়েছে।
ইনফ্যান্টিনো এই সমালোচনার পর স্পষ্ট করেন, তার মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজ ভক্তদের শান্তিপূর্ণভাবে আসা ও দলকে উত্সাহিত করা, যা তিনি ‘দারুণ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাতার বিশ্বকাপের সময় ভক্তদের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
ইনফ্যান্টিনোর আরেকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ছিল ডিসেম্বরের ওয়ার্ল্ড কাপ ড্র-এ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফা শান্তি পুরস্কার প্রদান করা। এই পদক্ষেপের পরই আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও ক্রীড়া বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে যখন মার্কিন সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে এবং ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করার হুমকি দেন।
ইনফ্যান্টিনো ট্রাম্পের প্রতি তার সমর্থনকে ‘বস্তুনিষ্ঠভাবে’ যথার্থ বলে ব্যাখ্যা করেন। তিনি যুক্তি দেন, ট্রাম্পের ভূমিকা ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্থগিত যুদ্ধ চুক্তি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এই চুক্তি হাজারো প্রাণ রক্ষা করেছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার প্রদানকে ন্যায়সঙ্গত বলে উল্লেখ করেন।
ইনফ্যান্টিনো একই সঙ্গে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুনরায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেন। রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে ফিফা ও ইউইএফএ থেকে নিষিদ্ধ ছিল। তবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) সম্প্রতি রাশিয়ার ক্রীড়া সংস্থাগুলোর পুনরায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সুপারিশ করেছে, যা ফিফা ও ইউইএফএকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।
ইনফ্যান্টিনো উল্লেখ করেন, রাশিয়ার পুনরায় অনুমোদন একটি জটিল প্রক্রিয়া হবে এবং তা কেবল ক্রীড়া সংস্থার নয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিবেশের ওপরও নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ফিফা ও ইউইএফএকে রাশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এই সব বিবৃতি ড্যাভোসে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দেওয়া হয়, যেখানে ইনফ্যান্টিনো তার মন্তব্যের পেছনের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিফা সবসময় শান্তি, ন্যায়বিচার ও ক্রীড়া ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবে।
ইনফ্যান্টিনোর এই প্রকাশনা ক্রীড়া জগতের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক তার শান্তি পুরস্কার প্রদানকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে কিছু ভক্ত তার ক্ষমা প্রার্থনা ও রাশিয়া পুনরায় অনুমোদনের ইচ্ছাকে ক্রীড়া সংহতির প্রচেষ্টা হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন।
ফিফা আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ড্র-এ এই বিষয়গুলো পুনরায় আলোচিত হবে। ড্র-এ রাশিয়া পুনরায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা, ট্রাম্পের শান্তি পুরস্কার ও কাতার বিশ্বকাপের নিরাপত্তা রেকর্ডের ওপর আরও বিশদ আলোচনা হবে। ক্রীড়া প্রেমিকদের জন্য এই বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভবিষ্যৎ গঠন করবে।
সারসংক্ষেপে, ইনফ্যান্টিনো ব্রিটিশ ভক্তদের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার প্রদানকে ন্যায়সঙ্গত বলে সমর্থন করেছেন এবং রাশিয়ার পুনরায় অনুমোদনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন। তার এই অবস্থান ক্রীড়া ও রাজনীতি সংযোগের নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করেছে, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের নীতি ও নৈতিকতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।



