মিনিয়াপলিস, মিনেসোটা – যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) আজ ঘোষণা করেছে যে, শহরের ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহার অবিলম্বে শুরু হবে। এই সিদ্ধান্তটি ডিপার্টমেন্টের সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের এক্স পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয় এবং সাম্প্রতিক দুইজন আমেরিকান নাগরিকের মৃত্যুর পর বাড়তি চাপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
গত মাসে আলেক্স প্রেট্টি এবং রেনি গুড নামে দুইজন নাগরিকের মৃত্যু ঘটার পর, ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের মিনিয়াপলিসে তীব্র উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক উন্মোচিত হয়। উভয় নামের ব্যক্তিরা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে চালু করা অভিযানকালে নিহত হন, যা সরকারকে বডি ক্যামেরা প্রয়োগের দাবি বাড়িয়ে দেয়।
হেন্নিপিন কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনার ২৪ জানুয়ারি ঘটিত আলেক্স প্রেট্টির মৃত্যুকে হোমিসাইড হিসেবে চিহ্নিত করেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রেট্টি একাধিক গুলির আঘাতে আহত হয়ে হেন্নিপিন কাউন্টি মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। গুলির উৎসকে এক বা একাধিক আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার হাতে নির্দেশ করা হয়েছে।
মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) জানিয়েছে যে, প্রেট্টির মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত দুইজন এজেন্ট বডি ক্যামেরা পরিধান করছিলেন এবং ঘটনাক্রমে তারা অবিলম্বে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এজেন্টদের এই পদক্ষেপের পেছনে তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ করা অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) ইতিমধ্যে প্রেট্টির মৃত্যুর ওপর একটি সিভিল রাইটস তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্তের লক্ষ্য হল গুলির ব্যবহার ও শুটিংয়ের বৈধতা, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আচরণে কোনো অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা নির্ণয় করা।
নোয়েমের মতে, আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বডি ক্যামেরা প্রোগ্রামটি পুরো দেশে বিস্তৃত হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মিনিয়াপলিসে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি ভবিষ্যতে অন্যান্য ফেডারেল এজেন্সির ক্ষেত্রেও পুনরাবৃত্তি করা হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র একটি আংশিক সরকার বন্ধের তৃতীয় দিনে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সরকার পুনরায় চালু করার শর্ত হিসেবে অভিবাসন সংস্কার এবং বডি ক্যামেরা প্রয়োগকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করে আসছে। এই দাবিগুলি ফেডারেল বাজেট আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) গত বছর কংগ্রেসের অনুমোদনে ৮০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫৯ বিলিয়ন পাউন্ড) তহবিল পেয়ে সর্বোচ্চ বাজেটপ্রাপ্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। এই বিশাল বাজেটের মধ্যে বডি ক্যামেরা সরঞ্জাম ও রক্ষণাবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়োপযোগী বলে সরকারী কর্মকর্তারা মনে করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পক্ষে সাড়া দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ক্যামেরা থাকলে আইন প্রয়োগকারী ও সাধারণ মানুষ উভয়েরই সত্যিকারের ঘটনার রেকর্ড থাকে, ফলে মিথ্যা তথ্যের সম্ভাবনা কমে যায়। ট্রাম্পের মতে, এই ব্যবস্থা প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আইন প্রয়োগের জন্য উপকারী হতে পারে।
প্রেট্টি ও গুডের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে বডি ক্যামেরা প্রয়োগের সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারী দিক থেকে এটি স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা, আর বিরোধী পক্ষ থেকে এটি অতিরিক্ত নজরদারির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ফেডারেল এজেন্সিগুলোর মধ্যে ক্যামেরা ব্যবহারের মানদণ্ড নির্ধারণ, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



