12 ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৯৩৫ ভোটকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৪০টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০টি কেন্দ্র, যার মধ্যে ২২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ভোটকেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ দুইটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। সদর উপজেলা ৪৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টি ঝুঁকিপূর্ণ, কালিয়াকৈর ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯১টি, শ্রীপুর ১৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৭টি, কাপাসিয়া ১২২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬টি এবং কালিগঞ্জ ৯০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত। মোট ২১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র জেলা পর্যায়ে রয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অধীনে তিনটি সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত এলাকা রয়েছে, যেখানে মোট ৪০০টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে এবং এদের মধ্যে ২২৭টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এই তথ্য গাজীপুর জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ক্যামেরা পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ গার্ড (বিজিবি) এবং র্যাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহল থাকবে। এই সংস্থাগুলো ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে নিয়মিত গশত করবে এবং কোনো অশান্তি বা হিংসাত্মক ঘটনার প্রতিরোধে তৎপর থাকবে।
ভোটকেন্দ্রের কর্মীদের বডি ক্যামেরা ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ করা হবে, ফলে কোনো অনিয়ম দ্রুত সনাক্ত করা সম্ভব হবে। নিরাপত্তা কর্মী ও ক্যামেরা সমন্বয় ভোটদাতাদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে।
নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একত্রে কাজ করে ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে চুক্তিবদ্ধ। এ ধরনের ব্যবস্থা নির্বাচনের ফলাফলে কোনো হস্তক্ষেপ না হওয়ার নিশ্চয়তা দেয়।
রাজনৈতিক দলগুলোও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি মনোযোগ দিয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষক দল গঠন করার কথা জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বিরোধী দল থেকে বিশেষ আপত্তি বা দাবি প্রকাশিত হয়নি।
গাজীপুরের ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা নির্বাচনের মসৃণ পরিচালনা এবং ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



