ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফ্যান্টিনো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার প্রদানকে সমর্থন করে এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য কোনো বয়কটের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। পুরস্কারটি ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে, ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন ডি.সিতে প্রদান করা হয়। ইনফ্যান্টিনো এই সিদ্ধান্তের ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও তা ন্যায়সঙ্গত বলে দাবি করেছেন। এটি ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কার হিসেবে পরিচিত, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার শান্তি প্রচারের উদ্যোগের অংশ।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সম্মাননা বিতরণে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল মাদুরোকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে। এসব ঘটনা পুরস্কার প্রদানকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে। এই পদক্ষেপের ফলে ফিফার স্বাতন্ত্র্য ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সীমা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ইনফ্যান্টিনো বলছেন, “বস্তুনিষ্ঠভাবে তিনি এই পুরস্কারটির যোগ্য। বিশ্বে শান্তি বাড়াতে যা কিছু করা যায়, তা করা উচিত, আর এজন্য আমরা এমন ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিতে চাই যারা শান্তির পথে কাজ করে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তি অর্জনের জন্য ক্রীড়া সংস্থার ভূমিকা অপরিহার্য এবং তাই তিনি ট্রাম্পকে এই স্বীকৃতি প্রদানকে ন্যায়সঙ্গত মনে করেন।
বিশ্বকাপের বয়কটের দাবি কিছু গোষ্ঠী থেকে উঠে এসেছে, মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা, বিশেষ করে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের কঠোরতা নিয়ে। মিনিয়াপোলিসসহ বেশ কয়েকটি আমেরিকান শহরে প্রতিবাদে উত্তেজনা দেখা গিয়েছে। ইনফ্যান্টিনো উল্লেখ করেন, “দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বয়কট করার কোনো আহ্বান শোনা যায়নি, তাই ফুটবলে কেন বয়কটের কথা বলা হচ্ছে?” বয়কটের ফলে টিকিট বিক্রি ও স্পনসরশিপে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা বিশ্বকাপের আর্থিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি যুক্তি দেন, বর্তমান বিভক্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ বিশ্বে ফুটবলের মতো একটি গ্লোবাল ক্রীড়া ইভেন্টই মানুষের মধ্যে সংযোগের সেতু গড়ে তুলতে পারে। “আমাদের এমন মুহূর্তের প্রয়োজন যেখানে মানুষ ফুটবলের প্রতি উন্মাদনা ভাগ করে নিতে পারে এবং একসাথে মিলিত হতে পারে,” তিনি বলেন। ফুটবলের গ্লোবাল আকর্ষণ বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি গড়তে সহায়ক।
ইনফ্যান্টিনো রাশিয়া পুনরায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে ফিফা ও ইউইএফএর দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন। ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এখনও কার্যকর, তবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি যুব স্তরে রাশিয়ান দলকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে। রাশিয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর, যা এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ফলাফল দেখায়নি।
ইনফ্যান্টিনো বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞা কোনো ফল দেয়নি, বরং আরও বেশি হতাশা ও ঘৃণা তৈরি করেছে।” তিনি যোগ করেন, “যুবক ও তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য শান্তি ও সমন্বয়ের পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।” ইউইএফএ যুবক পর্যায়ে রাশিয়ান দলকে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ তৈরি হবে বলে ইনফ্যান্টিনো যুক্তি দেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে। ইনফ্যান্টিনো এই ইভেন্টকে শান্তি ও সংহতির মঞ্চ হিসেবে বজায় রাখার জন্য সব ধরনের বয়কটের বিরোধিতা করছেন এবং ফিফার নীতি অনুযায়ী ক্রীড়া স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্রীড়া কোনো রাজনৈতিক মতবাদের অধীন হওয়া উচিত নয় এবং বিশ্বকাপকে সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।



