দালাই লামা ২০২৪ সালের গ্র্যামি পুরস্কার অডিওবুক বিভাগে বিজয়ী ঘোষিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শিরোনাম তৈরি করেছে। চীন সরকার এই স্বীকৃতিকে “চীন বিরোধী রাজনৈতিক চালনা” হিসেবে সমালোচনা করে এবং শিল্প পুরস্কারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বিরোধিতা করেছে। গ্র্যামি পুরস্কার সমাবেশে দালাই লামা নিজে উপস্থিত না হয়ে, রুফাস ওয়েইনরাইটের মাধ্যমে পুরস্কার গ্রহণ করা হয়।
দালাই লামা অডিওবুক “Meditations: The Reflections of His Holiness the Dalai Lama” এর জন্য অডিওবুক ক্যাটেগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি পুরস্কার গ্রহণের সময় কৃতজ্ঞতা ও বিনয় প্রকাশ করে বলেছেন, এটি ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, বরং মানবিক দায়িত্বের স্বীকৃতি। তার এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং বিশ্বব্যাপী প্রশংসা পায়।
চীন সরকারের মুখপাত্র লিন জিয়ান গ্র্যামি পুরস্কারকে “চীন বিরোধী রাজনৈতিক চালনা” হিসেবে উল্লেখ করে, এমন শিল্প পুরস্কারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা কঠোরভাবে বিরোধিতা করা হবে বলে জোর দেন। তিনি এ বিষয়ে চীন সরকারের অবস্থানকে “সুস্পষ্ট এবং অটল” বলে উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া হয় এবং চীন সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
দালাই লামা ১৯৫৯ সালে চীন সরকারের সামরিক দমন পর তিব্বত থেকে ভারতীয় ধারামশালায় নির্বাসনে চলে যান। তবুও তিনি তিব্বতীয় স্বায়ত্তশাসনের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালিয়ে আসছেন। চীন সরকার তাকে বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তিব্বতকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে।
গত বছর দালাই লামা তার উত্তরসূরি নির্ধারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা চীন সরকারের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। তিব্বতীয় বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী দালাই লামার পুনর্জন্ম একটি আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া, তবে চীন সরকার উত্তরসূরির নির্বাচনকে চীনের আইন, ধর্মীয় রীতি এবং ঐতিহাসিক প্রথা অনুসারে, এবং শেষ পর্যন্ত চীন সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন বলে দাবি করে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাংস্কৃতিক পুরস্কারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার উদাহরণে রাশিয়ার সঙ্গীত পুরস্কার এবং তুরস্কের চলচ্চিত্র উৎসবের বিতর্ক উল্লেখ করা যায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অ্যানা কার্লসেন বলেন, “শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি সূক্ষ্ম মঞ্চে পরিণত হয়েছে; কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে এটি প্রায়শই ব্যবহৃত হয়।” তিনি যোগ করেন, দালাই লামার গ্র্যামি জয় চীন-ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক সংলাপের নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে।
দালাই লামার এই স্বীকৃতি এবং চীন সরকারের তীব্র নিন্দা উভয়ই তিব্বতীয় বিষয়কে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনরায় উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে চীন সরকার এই ধরনের সাংস্কৃতিক স্বীকৃতিকে কীভাবে মোকাবেলা করবে এবং তিব্বতীয় নেতৃত্বের উত্তরসূরি প্রক্রিয়ায় কী ধরনের চাপ প্রয়োগ করবে, তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে।



