মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক নথিপত্রে দেখা গেছে, প্রাক্তন রাজকন্যা সারা ফার্গুসন জেফ্রি এপস্টেইনের কারাবাসের সময়ই ইমেইল আদান-প্রদান করছিলেন। এপস্টেইন ২০০৯ সালের ২২ জুলাই মুক্তি পাওয়ার আগে, ২০০৯ সালের জুনে তার সঙ্গে ফার্গুসনের বেশ কয়েকটি বার্তা রেকর্ড হয়েছে।
নথিতে উল্লেখ আছে, ১৪ জুন ২০০৯ তারিখে “সারা” নামে একটি ইমেইলে তিনি এপস্টেইনকে তার নতুন উদ্যোগ “মাদার্স আর্মি” প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে পরামর্শ চেয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, “আমি কীভাবে মাদার্স আর্মি কোম্পানি চালু করব যাতে এটি বাণিজ্যিক হয়? আপনি কি সাহায্য করতে পারবেন?” এই চিঠি সরাসরি এপস্টেইনের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
এর দুই সপ্তাহ পর, ২৬ জুন ২০০৯-এ আরেকটি ইমেইলে “সারা” জানিয়েছেন, “আমি জীবিত… হ্যাঁ, আমি প্রথম লেডিকে গিয়েছি এবং তিনি মাদার্স আর্মি পছন্দ করেছেন। আমি পরে আপনাকে ফোন করব, ভালোবাসি।” এই বার্তায় তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মাদার্স আর্মি একটি সংস্থা, যার লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী মায়েদের কণ্ঠস্বরকে উঁচু করা। কোম্পানিটি সারা মার্গারেট ফার্গুসনের নামে রেজিস্টার্ড এবং রয়াল লজ, উইনসডর গ্রেট পার্কে তার ঠিকানা রয়েছে। কোম্পানির নিবন্ধন তথ্য কোম্পানিজ হাউসে পাওয়া যায়।
এপস্টেইন ২০০৯ সালের ২২ জুলাই কারাবাস থেকে মুক্তি পায়, যেখানে তিনি অল্প ১৩ মাসের জন্য দণ্ডিত ছিলেন, যদিও তার শাস্তি ১৮ মাসের নির্ধারিত ছিল। মুক্তির পরও ফার্গুসন ও এপস্টেইনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ২০১১ সালে এপস্টেইন “ফার্গ” নামে একটি ইমেইলে লিখেছেন, “মাদার্স আর্মি আপনারই, আমি কিভাবে হস্তান্তর করা যায় তা জানাব। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে এই লেনদেনে কোনো ক্ষতি না হয়।” এই বার্তা থেকে স্পষ্ট হয় যে এপস্টেইন সংস্থার মালিকানা স্থানান্তরে সহায়তা করতে ইচ্ছুক ছিলেন।
নথিতে আরও দেখা যায়, এপস্টেইন ও তার সহকারী ফার্গুসনের জন্য ভ্রমণ ব্যবস্থা করছিলেন। সহকারীর নাম ও ইমেইল ঠিকানা রেড্যাক্ট করা হলেও, বার্তায় উল্লেখ আছে যে ফার্গুসন ও দুইজন সহকারীকে লন্ডন থেকে মিয়ামি পর্যন্ত উড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তারপর নিউ ইয়র্কে গিয়ে আবার লন্ডনে ফিরে আসার ব্যবস্থা করা হবে। এই ভ্রমণসূচি ফার্গুসনের এপস্টেইনের বাড়িতে মুক্তির পাঁচ দিন পর সাক্ষাতের পরিকল্পনা নির্দেশ করে।
বিবিএস ফার্গুসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মন্তব্য চেয়েছে, তবে তিনি এপস্টেইন ফাইলের তালিকায় নাম উল্লেখের ফলে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত দেয় না বলে জানিয়েছেন। নথিগুলো দেখায় যে ফার্গুসন ও এপস্টেইনের মধ্যে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত স্তরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, তবে এ পর্যন্ত কোনো আইনি অভিযোগের ভিত্তি প্রকাশিত হয়নি।
এই ইমেইলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে জমা হওয়া ডকুমেন্টের অংশ, যা এপস্টেইনের অপরাধমূলক কার্যকলাপের তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। বর্তমানে এই তথ্যগুলো যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে, এবং ভবিষ্যতে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা তা নির্ধারিত হবে।
ফার্গুসনের মাদার্স আর্মি সংস্থার বর্তমান কার্যক্রম ও আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে কোম্পানির নিবন্ধন তথ্য থেকে দেখা যায় যে এটি এখনও সক্রিয়। এপস্টেইনের সঙ্গে তার ইমেইল যোগাযোগের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এই বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে।
এই ঘটনায় উল্লেখযোগ্য যে, এপস্টেইনের অপরাধমূলক রেকর্ড ও কারাবাসের সময় ফার্গুসনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ, তার সামাজিক অবস্থান ও ব্যবসায়িক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উন্মোচন করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত দায়িত্ব বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, এবং ফার্গুসন নিজে এই বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে দেখা যায় সারা ফার্গুসন জেফ্রি এপস্টেইনের কারাবাসের সময়ই তার মাদার্স আর্মি প্রকল্পের জন্য পরামর্শ চেয়েছিলেন এবং এপস্টেইনও সংস্থার হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা করেছেন। এপস্টেইনের মুক্তির পরও উভয়ের মধ্যে ভ্রমণ ও সাক্ষাতের পরিকল্পনা ছিল, যা ভবিষ্যতে তদন্তের বিষয় হতে পারে।



