ডিলান ওব্রায়েন, ‘Send Help’ সিরিজের প্রধান চরিত্র ব্র্যাডলি প্রেস্টনের অভিনয়কারী, শোয়ের চূড়ান্ত সংঘর্ষে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তিনি সিরিজের শেষের দৃশ্যকে নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা ভক্তদের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ওব্রায়েনের মতে, অভিনেতা হিসেবে ভিলেনের চরিত্রকে রক্ষা করা কোনো বাধ্যতামূলক নীতি নয়। তিনি সাধারণত যে ধারণা থাকে, যে প্রতিটি খলনায়কের পেছনে একটি যুক্তি বা দুঃখজনক গল্প লুকিয়ে আছে, তা তিনি গ্রহণ করেন না।
এর আগে তিনি রিভার গ্যালোর ‘Ponyboi’ (২০২৪) এবং জান কোমাসার ‘Anniversary’ (২০২৫) ছবিতে খলনায়ক চরিত্রে সহানুভূতি দেখিয়েছেন, তবে তার কাজের জন্য তিনি সেই চরিত্রের অপরাধকে ন্যায়সঙ্গত করার দায়িত্ব অনুভব করেন না।
‘Send Help’ এ তিনি ব্র্যাডলি প্রেস্টন নামের এক আত্মবিশ্বাসী সিইও চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি কোম্পানির মিশনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেন। ওব্রায়েন এই চরিত্রকে কোনো শিকার হিসেবে দেখেন না, বরং তার স্বভাবিক স্বার্থপরতা তুলে ধরতে চান।
সিরিজের শেষের দিকে ব্র্যাডলির সঙ্গে র্যাচেল ম্যাকড্যামসের লিন্ডা লিডল নামের কৌশল ও পরিকল্পনা এক্সিকিউটিভের সংঘর্ষ দেখা যায়। লিন্ডা ব্র্যাডলির উত্তরাধিকারী পরামর্শদাতা ফার্মে কাজ করেন এবং শোয়ের মূল মোড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
লিন্ডা চরিত্রটি বিধবা এবং পূর্বে অ্যালকোহলিক স্বামীর নির্যাতনের শিকার, যা ওব্রায়েনের সহানুভূতির মূল কারণ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে লিন্ডার ব্যক্তিগত কষ্ট তাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দৃঢ় করে তুলেছে।
ব্র্যাডলি পূর্বে লিন্ডাকে তার দাদার প্রতিশ্রুত পদোন্নতি দিতে অস্বীকার করেন, যদিও দাদার ইচ্ছা ছিল তাকে সর্বোচ্চ কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। তদুপরি, ব্র্যাডলি লিন্ডাকে তার ‘ডাউডি’ চেহারার কারণে স্যাটেলাইট অফিসে পাঠানোর পরিকল্পনা করেন, যা তার পুরুষমুখী কর্মপরিবেশের প্রতিফলন।
এই সিদ্ধান্তের পরেও, ব্র্যাডলি লিন্ডাকে ব্যাংককে একটি জরুরি ব্যবসায়িক সফরে অন্তর্ভুক্ত করেন, যাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মর্জার রক্ষা করা যায়। এই অনিচ্ছাকৃত অন্তর্ভুক্তি শেষ পর্যন্ত ব্র্যাডলিকে তাত্ক্ষণিক বিপদ থেকে রক্ষা করে।
চূড়ান্ত সংঘর্ষে লিন্ডা ব্র্যাডলি, তার বাগদত্তা জুরি (এডিল ইসমাইলের চরিত্র) এবং স্থানীয় স্কিপারকে হত্যা করে, যিনি থাইল্যান্ডের গালফে তাদের বিমান দুর্ঘটনার বেঁচে থাকা লোকদের সন্ধানে সাহায্য করছিলেন। এই ঘটনা শোয়ের নৈতিক জটিলতাকে আরও উন্মোচিত করে।
ওব্রায়েন জোর দিয়ে বলেছেন যে তার লিন্ডার প্রতি সহানুভূতি তার ব্যক্তিগত কষ্টের ভিত্তিতে, তার হিংসাত্মক কাজের ন্যায়সঙ্গতকরণ নয়। তিনি অভিনেতা হিসেবে চরিত্রের মানবিক দিককে বুঝতে পারা এবং একইসাথে তার কাজের দায়িত্বকে আলাদা রাখতে চান।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে কোনো চরিত্রের দোষ বা গুণাবলীকে ব্যাখ্যা করার জন্য অভিনেতাকে নিজে থেকেই নৈতিক দায়িত্ব নিতে হয় না। ভিলেনের ভূমিকা পালন করা মানে তাদের অপরাধকে সমর্থন করা নয়, বরং গল্পের প্রবাহে তাদের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা।
‘Send Help’ সিরিজটি তার তীব্র থ্রিলার উপাদান এবং চরিত্রের জটিলতা নিয়ে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে চলেছে। শোয়ের শেষের দৃশ্যের নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং ওব্রায়েনের মন্তব্য দুটোই দর্শকদের মধ্যে গভীর বিশ্লেষণকে উস্কে দিয়েছে।
সিরিজের বক্স অফিস পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্য; ‘Send Help’ সাম্প্রতিক সপ্তাহে $২০ মিলিয়ন আয় করে শীর্ষে পৌঁছেছে। একই সময়ে ‘Melania’ জেসন স্ট্যাথামের ‘Shelter’কে ছাড়িয়ে তৃতীয় স্থানে বসেছে, যা মোট $৭ মিলিয়ন আয় করেছে।
ওব্রায়েনের এক সাক্ষাতে তিনি প্রকাশ করেছেন যে দর্শক তার চরিত্রকে পছন্দ করুক বা না করুক, তা তার কাজের মূল লক্ষ্য নয়। তিনি অভিনয়ের মাধ্যমে গল্পকে সত্যিকারের উপস্থাপন করতে বেশি গুরুত্ব দেন।
‘Send Help’ এর ভবিষ্যৎ পর্বে কী ধরনের মোড় আসবে, তা এখনও অজানা, তবে ওব্রায়েনের এই দৃষ্টিভঙ্গি শোয়ের চরিত্র বিশ্লেষণে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। দর্শকরা এখন চরিত্রের নৈতিক দিক এবং অভিনেতার দৃষ্টিভঙ্গি দুটোই একসাথে বিবেচনা করে শোটি উপভোগ করতে পারেন।



