মেট্রোপলিটন পুলিশ লর্ড ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রাপ্ত রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ২০০৯ সালে গর্ডন ব্রাউন সরকারের অধীনে ব্যবসা সচিব হিসেবে কাজ করার সময় সংবেদনশীল তথ্য জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে পাঠিয়েছিলেন। এপস্টেইন, যিনি যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত, তখনই এই তথ্যের গৃহীতকারী হিসেবে উল্লেখিত হয়েছেন।
স্নোডেনের মতো ইমেইল ফাইলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ (DoJ) প্রকাশের পর, ম্যান্ডেলসনের নাম উল্লেখিত তথ্যগুলো প্রকাশ পায়। এই ফাইলগুলোতে দেখা যায়, ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগে তথ্য শেয়ার করেছেন। লর্ড ম্যান্ডেলসন এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (SNP) ও রিফর্ম ইউকে উভয়ই ম্যান্ডেলসনকে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেছে। তদুপরি, শ্রম দল, প্লেইড সিম্রি এবং কিছু শ্রমিক পার্টির সংসদ সদস্যও তদন্তের দাবি জানিয়েেছেন। এই সব পক্ষের দাবি অনুযায়ী, ম্যান্ডেলসনের কাজের পর্যালোচনা করা প্রয়োজন যাতে কোনো অপরাধমূলক দিক থাকে কিনা তা নির্ধারিত হয়।
মেট্রোপলিটন পুলিশের কমান্ডার এল্লা মারিটের মন্তব্যে বলা হয়েছে, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগের মাধ্যমে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত বহু আদালতের নথি প্রকাশের খবর পেয়েছি। এই প্রকাশের পর, মেট্রোপলিটন পুলিশকে সরকারি দায়িত্বে দুর্নীতির সম্ভাব্য রিপোর্টগুলো পাওয়া গেছে। সব রিপোর্টের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে দেখব, তা কি অপরাধমূলক তদন্তের মানদণ্ডে পৌঁছায় কিনা।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি নতুন কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য আমাদের নজরে আসে, আমরা তা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় তদন্ত চালিয়ে যাব।”
ডাউনিং স্ট্রিটের একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্যার কীর্স স্টার্মার লর্ড ম্যান্ডেলসনকে হাউস অফ লর্ডসের সদস্য হিসেবে থাকা বা তার উপাধি ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী অফিসের মুখপাত্র জানান, উপাধি সরাসরি বাতিল করার কোনো ক্ষমতা তাদের হাতে নেই এবং বর্তমান আইন অনুযায়ী উপাধি বাতিল করতে নতুন আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।
সরকার লর্ড ম্যান্ডেলসনের এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জরুরি তদন্ত শুরু করেছে। ম্যান্ডেলসন ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তবে গত সেপ্টেম্বর তিনি এই পদ থেকে বরখাস্ত হন, যখন তার এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ পায়। তার পর থেকে তিনি হাউস অফ লর্ডস থেকে ছুটিতে আছেন।
এই ঘটনায় শ্রম দল, প্লেইড সিম্রি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দাবি স্পষ্ট যে, লর্ড ম্যান্ডেলসনের কাজের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা দরকার। মেট্রোপলিটন পুলিশ সব রিপোর্টের যথাযথ মূল্যায়ন করে, যদি কোনো অপরাধমূলক দিক পাওয়া যায় তবে তা আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ম্যান্ডেলসন সরকারি দায়িত্বে তথ্য গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছেন, তবে তার উপাধি বাতিলের জন্য আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এই বিষয়টি রাজনৈতিক পরিসরে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ লর্ড ম্যান্ডেলসনের মতো উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদকে এমন অভিযোগে জড়িয়ে পড়া বিরল নয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, এবং তদন্তের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে।



