ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ডাউনিং স্ট্রিটের তথ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টির (শ্রম দল) নেতা স্যার কীর স্টার্মার লর্ড ম্যান্ডেলসনকে হাউস অব লর্ডসের সদস্যপদ থেকে বাদ দেওয়া উচিত বলে প্রকাশ করেছেন। স্টার্মার এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে লর্ড ম্যান্ডেলসনের যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সংযোগের ওপর জরুরি তদন্তের আদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে যে, ম্যান্ডেলসন যখন সরকারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন এপস্টেইনের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়ে তৎক্ষণাৎ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্কের নতুন তথ্য প্রকাশের পর নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত নথিপত্রে দেখা যায়, ২০০৯ সালে বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে ম্যান্ডেলসন গর্ডন ব্রাউনকে প্রেরিত অভ্যন্তরীণ সরকারী তথ্য এপস্টেইনের কাছে ফরোয়ার্ড করেছেন। এই ইমেইল বিনিময়গুলো ম্যান্ডেলসনের এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
লর্ড ম্যান্ডেলসন ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে নিয়োগ পাওয়ার পর হাউস অব লর্ডস থেকে অবকাশ গ্রহণ করেন। তবে, সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের পর তিনি ঐ পদ থেকে বরখাস্ত হন।
এরপর ম্যান্ডেলসন শ্রম দল থেকে চার দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক কর্মজীবনের পর পদত্যাগ করেন। তার এই পদত্যাগ এবং সাম্প্রতিক প্রকাশিত নথি তার জনসাধারণের জীবনে আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সরকার এখন ম্যান্ডেলসনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে চেষ্টা করছে। এপস্টেইনের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিশদ প্রকাশের ফলে তার ক্যারিয়ার শেষের দিকে পৌঁছেছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে শুক্রবার প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, গর্ডন ব্রাউন ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে আর্থিক সংকটের সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গোপন ও বাজার সংবেদনশীল তথ্যের ফাঁস তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া, তিনি এপস্টেইনের ফাইলগুলোতে ম্যান্ডেলসন ও এপস্টেইনের সম্পদ বিক্রয় সংক্রান্ত যোগাযোগের তথ্যও তদন্তের দাবি করেন।
ব্রাউন উল্লেখ করেন যে, এধরনের যোগাযোগের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি এবং এখন তিনি “বিস্তৃত এবং গভীরতর” তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সরকারী নথিপত্রের ফাঁসের ব্যাপারে আরও সুস্পষ্ট অনুসন্ধান প্রয়োজন।
হাউস অব কমন্সে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (SNP) এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটস ম্যান্ডেলসনের উপর সরকারি দায়িত্বকালে সম্ভাব্য অপরাধমূলক কাজের জন্য পুলিশ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। উভয় দলই ম্যান্ডেলসনের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা এবং আইনি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে চায়।
লর্ড ম্যান্ডেলসনকে এই বিষয়গুলোতে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই তদন্তের ফলাফল এবং রাজনৈতিক পার্টিগুলোর প্রতিক্রিয়া ব্রিটিশ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে। তবে স্পষ্ট যে, লর্ড ম্যান্ডেলসনের জনসাধারণের জীবনে এই নতুন প্রকাশনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে।



