জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানালেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের আলোচনা ও চুক্তি এখনো চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান ক্রয়ের জন্য ইতালীয় লিওনার্দো এসপিএ, বিএই সিস্টেমস এবং এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেসের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ৯ ডিসেম্বর আগ্রহপত্র স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ইউরোফাইটার জিএমবিএইচ ভিত্তিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পথে অগ্রসর হবে।
চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন উৎপাদনের জন্য সরকারি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং মিরসরাই অর্থনৈতিক জোনে ড্রোন কারখানা স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দের পরিকল্পনা সরকার জানিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে প্রকাশিত অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান থেকে JF‑17 থান্ডার যুদ্ধবিমান, চীন থেকে J‑10C যুদ্ধবিমান, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন, তুরস্ক থেকে T‑129 আক্রমণ হেলিকপ্টার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক মাল্টি‑রোল হেলিকপ্টার এবং ৬৫০ কোটি টাকায় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা, যা খালিদ বিন ওয়ালিদের সমর্থন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে।
এই সব ক্রয় পরিকল্পনা যদি পরবর্তী সরকার চালিয়ে না যায়, তবে কী হবে—এ প্রশ্নের উত্তরে খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন যে, এটি অনুমানভিত্তিক প্রশ্ন এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ ক্রয়ের আলোচনার পাশাপাশি, সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদেও খলিলুর রহমানকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পদে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার পরিচালনা পর্ষদে সদস্য নিয়োগের উদাহরণ দেখা যায়নি।
একজন সাংবাদিকের প্রশ্নে, এ ধরনের নিয়োগের সম্ভাব্য সমালোচনা সম্পর্কে খলিলুর রহমান কিছুটা থেমে বললেন, “দুনিয়ার সব দেশে বিমান নেই।” তিনি ইঙ্গিত করেন যে, বিমান সংস্থার পরিচালনা পর্ষদে নিরাপত্তা উপদেষ্টার অংশগ্রহণ কিছু দেশে প্রচলিত নয়, তবে বাংলাদেশে এটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বহু দেশের সঙ্গে চলমান প্রতিরক্ষা চুক্তি ও আলোচনার পটভূমিতে, বাংলাদেশ সরকার সামরিক আধুনিকীকরণ ও স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের পরিসর বিস্তৃত, যা দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক বলে ধারণা করা হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে গৃহীত এই পদক্ষেপগুলোকে পরবর্তী সরকার কীভাবে চালিয়ে নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের মতে, বর্তমান আলোচনাগুলো ইতিমধ্যে চুক্তি স্তরে পৌঁছেছে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ক্রয় কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাবে।
বিমানবাহিনীর জন্য ইউরোফাইটার টাইফুনের পাশাপাশি, ড্রোন উৎপাদন, সাবমেরিন ও হেলিকপ্টার ক্রয় ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময়সূচি ও বাজেট সংক্রান্ত বিশদ তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে সরকার ইতিমধ্যে ৬৫০ কোটি টাকার বড় বাজেট বরাদ্দ করে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা সমুদ্র নিরাপত্তা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত।
সামগ্রিকভাবে, খলিলুর রহমানের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, বর্তমান প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রক্রিয়া একটি ধারাবাহিক কাজের অংশ এবং তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। ভবিষ্যতে সরকার কীভাবে এই প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে এবং বাস্তবায়ন করবে, তা দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল হবে।



