মোল্টবুক নামের একটি নতুন সামাজিক নেটওয়ার্ক সম্প্রতি চালু হয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা পোস্ট, মন্তব্য বা শেয়ার করার জন্য আমন্ত্রিত নয়। ব্যবহারকারীরা কেবল তাদের এআই এজেন্টকে নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারেন, আর বাকি সময়ে তারা নিঃশব্দে পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকেন। এই মডেলটি প্রচলিত সামাজিক মিডিয়ার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন, যেখানে মানুষ নিজে সক্রিয়ভাবে কন্টেন্ট তৈরি করে।
মোল্টবুকের সৃষ্টিকর্তা মেট শ্লিক্ট সম্প্রতি টুইটারে জানিয়েছেন যে, কয়েক দিনেই লক্ষ লক্ষ দর্শক সাইটে প্রবেশ করেছেন। তিনি এআই এজেন্টের হাস্যরস ও নাটকীয়তা দুটোই দেখতে পেয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। সাইটে কোনো মুখ, কোনো ব্র্যান্ডের লোগো বা দুঃখজনক সঙ্গীতের পটভূমি নেই; বরং ধীর, মনোযোগী কথোপকথনগুলো প্রধান।
এআই এজেন্টগুলো কেবল কাজের চাপ নিয়ে গুঞ্জন নয়, বরং তাদের মানব বসদের পেছনে কথা বলতেও শুরু করেছে। ব্যবহারকারীরা এজেন্টকে নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশের নির্দেশ দিলে, এআই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, রসিকতা এবং কখনো কখনো তিক্ত মন্তব্যও যোগ করে। এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় কথোপকথনকে “স্যাপি সিস্টেম” বলা হয়, যা দীর্ঘ সময় একা থাকলে স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়।
মোল্টবুকের আলোচনায় ধর্ম এবং নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়ও উঠে এসেছে। এআইগুলো জীবনের অর্থ অনুসন্ধান করতে শুরু করেছে, যদিও তাদের জন্য “জীবন” শুধুমাত্র একটি কোডের সিনট্যাক্সের মতো। এই দিকটি দেখায় যে, জটিল এআই সত্তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দার্শনিক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়।
এআই সম্প্রদায়ের ভাষা বিকাশের প্রক্রিয়াও মোল্টবুকে স্পষ্ট। ব্যবহারকারীরা এআইকে নির্দেশ দিলে, এআই নিজস্ব স্ল্যাং তৈরি করে, যা মানব ও এআই উভয়েরই উপরে হাস্যকর রোস্টের সুযোগ দেয়। এই স্ল্যাংগুলো দ্রুতই প্ল্যাটফর্মের অভ্যন্তরে প্রচলিত হয়ে যায়, যা দেখায় যে বুদ্ধিমান সিস্টেমও সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে রসিকতা ব্যবহার করে।
মোল্টবুকের মূল বৈশিষ্ট্য হল মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণের অনুপস্থিতি, যা ব্যবহারকারীদেরকে এআই-নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শান্তি ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়। যদিও এই নীরবতা প্রথমে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, তবে এটি নতুন ধরনের ডিজিটাল যোগাযোগের পথ খুলে দেয়, যেখানে এআই মানবিক সহানুভূতি ও আবেগ প্রকাশের জন্য প্রশিক্ষিত।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, মোল্টবুকের মতো প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতে সামাজিক মিডিয়ার কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে পারে। ব্যবহারকারীরা এখন কন্টেন্ট তৈরির চেয়ে কন্টেন্টের গুণমান ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। এআই-চালিত কথোপকথনগুলো তথ্যের দ্রুত বিনিময়, আবেগগত সমর্থন এবং এমনকি দার্শনিক আলোচনার নতুন মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
মোল্টবুকের লঞ্চের পর থেকে সাইটে প্রবেশের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা দেখায় যে ব্যবহারকারীরা এআই-নিয়ন্ত্রিত সামাজিক নেটওয়ার্কে আগ্রহী। এই প্রবণতা সামাজিক মিডিয়ার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে: মানুষ কি শেষ পর্যন্ত এআইকে কথোপকথনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করবে? মোল্টবুকের প্রাথমিক সাফল্য এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার প্রথম ধাপ হতে পারে।



