মঙ্গলবার বিকেলে মন্ত্রণালয় অব বিদেশী বিষয়ক ভবনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডা. খালিলুর রহমান রক্ষা‑খাত ও অন্যান্য ক্ষেত্রের বহুমুখী আলোচনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চলমান আলোচনাগুলি এখনও প্রক্রিয়াধীন।
খালিলুরের মতে, এই আলোচনাগুলি অস্থায়ী সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে গতি পেয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। তিনি যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে, পরবর্তী সরকার যদি এই চুক্তিগুলি চালিয়ে না যায় তবে কী হবে, তখন তা “ধারণা মাত্র” বলে উত্তর দেন।
সেই দিনই তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শদাতা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকের বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে জানানো হয়নি, তবে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্ষা‑খাত সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে অনুমান করা যায়।
অস্থায়ী সরকার গৃহীত মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক এবং পাকিস্তানসহ বেশ কিছু দেশের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে সহযোগিতা শুরু করেছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়, প্রশিক্ষণ ও কূটনৈতিক সমঝোতা অন্তর্ভুক্ত।
খালিলুরের সাম্প্রতিক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক পদে নিয়োগের ওপর কিছু সমালোচনা উঠে আসে। টিভি ক্যামেরার সামনে প্রশ্ন করা হলে তিনি হালকা হাসি দিয়ে বলেন, “বিশ্বের সব দেশেই বিমান বাংলাদেশ নেই,” এবং এ বিষয়ে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য করেন না।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোর্ডে নতুন তিনজনের নাম প্রকাশিত হয়। বিশেষ সহকারী খালিল, চিফ অ্যাডভাইজার ফয়েজ আহমদ তায়েবের অধীনে পোস্ট, টেলিকমিউনিকেশন ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক, এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সেক্রেটারি আকতার আহমেদকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
এই নিয়োগগুলো ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের নির্বাচনের এক মাসের কম আগে করা হওয়ায় বিমান শিল্পের অভ্যন্তরে প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের পরিবর্তন শিল্পের স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সময়ে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ডা. মো. শফিকুর রহমান, তার স্ত্রী এবং উট্রার থেকে দুইজনকে শিশুশ্রমের অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় একটি গৃহস্থালী শিশুর শোষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, অস্থায়ী সরকারের শেষ পর্যায়ে এ ধরনের ঘটনা সরকারী নীতি ও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে রক্ষা‑খাতের চুক্তি ও বিমান শিল্পের নিয়োগগুলোকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে।
খালিলুর একই সঙ্গে রোহিঙ্গা বিষয়ের উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দ্বৈত ভূমিকা তাকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রাখে।
ভবিষ্যতে রক্ষা‑খাতের আলোচনার অগ্রগতি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা কাঠামোর পরিবর্তন এবং গ্রেফতারকৃত কর্মকর্তাদের মামলার ফলাফল কীভাবে গৃহীত হবে, তা দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতিতে প্রভাব ফেলবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।



