চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি স্কুল ও কলেজ মাঠে ১১-দলীয় জোটের র্যালিতে জামাত‑ই‑ইসলামী আমীর শফিকুর রহমান হ্যাকিং ঘটনার দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত হওয়ার কথা জানিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, তার এক্স (X) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে নারীদের অবমাননাকর মন্তব্য ছড়িয়ে তার সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।
রহমানের মতে, হ্যাকিংয়ের পেছনে থাকা প্রযুক্তিগত দল সনাক্ত করা হয়েছে এবং এখন তাদের মূল পরিকল্পনাকারীকে উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত চালু রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, এই ধরনের সাইবার আক্রমণকে সহ্য করা হবে না এবং দায়ীদের আইনি পদক্ষেপের মুখে আনা হবে।
র্যালির প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময়, তিনি উল্লেখ করেন যে আজকের মা-মহিলারা ১১-দলীয় জোটকে তাদের গৌরবের একমাত্র রক্ষক হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে, কিছু দল “পরিবারিক কার্ড”ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারীদের মর্যাদা হ্রাসের হুমকি দেয়, এ কথা তিনি তীব্রভাবে সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, “আমার মায়ের সম্মান সবকিছুর উপরে,” এবং এ ধরনের আক্রমণকে সহ্য করা হবে না। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি জোটের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরেন, যেখানে তার দল জুলাই বিদ্রোহের শহীদ ও আহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।
রহমান আরও অভিযোগ করেন যে, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী সম্পত্তি জবরদস্তি ও জমি দখলের মাধ্যমে অবৈধ লাভ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই গোষ্ঠীর “অধিকারবহুল রাজনীতি”ের ফলে তাদের নিজস্ব সদস্য ২৩৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এই সংখ্যা তিনি ঐ গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ফলাফল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
চট্টগ্রাম বন্দর সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা বন্দরকে ব্যক্তিগত লাভের জন্য বিক্রি করে চলেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সুযোগ আর না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জোটের অধীনে বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যেখানে কোনো দুর্নীতি থাকবে না।
অন্য রাজনৈতিক দল এইসব অভিযোগকে অস্বীকার করেছে এবং হ্যাকিংয়ের দায়িত্বের কোনো প্রমাণ না থাকায় তা রাজনৈতিক কূটনীতির অংশ বলে মন্তব্য করেছে। তারা দাবি করে, শফিকুরের বক্তব্য কেবলমাত্র বিরোধী দলের প্রতি আক্রমণাত্মক রেটোরিকের অংশ এবং বাস্তবিক কোনো তদন্তের ভিত্তি নেই।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, হ্যাকিংয়ের দায়ী চিহ্নিত হওয়া এবং জোটের বন্দর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দুটোই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মোড় আনতে পারে। যদি সত্যিই দায়ী ব্যক্তিরা প্রকাশ পায়, তবে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি শক্তিশালী হবে। একইসঙ্গে, বন্দর উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে এবং জোটের জনপ্রিয়তা বাড়তে পারে। তবে, বিরোধী দলের বিরোধী অবস্থান এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় থাকবে।



