ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস, দেশের প্রধান উপদেষ্টা, আজ শব‑এ‑বারাতের আগমনের পূর্বে দেশীয় ও বৈশ্বিক মুসলিম সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি বার্তা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে হিজরি ক্যালেন্ডারের শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যে এই রাত পালন করা হয়, যা ধর্মীয় দৃষ্টিতে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।
শব‑এ‑বারাতকে মুসলিমরা দয়া, ক্ষমা ও আত্মিক শুদ্ধিকরণের এক অনন্য সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে। ঐ রাতের গুরুত্ব হাদিসে উল্লেখিত যে আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে এই রাতে তাঁর বান্দাদের ক্ষমা করে দেন, তাই এটি এক পবিত্র উপলক্ষ্য হিসেবে স্বীকৃত।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস বার্তায় জোর দিয়ে বলেন যে, এই পবিত্র রাতের মাধ্যমে মুসলিমদের আত্মপর্যালোচনা, দান ও প্রার্থনা করা উচিত। তিনি সকলকে আহ্বান জানান যে, আত্মসমালোচনা ও অনুতাপের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর অনন্ত কৃপা, আশীর্বাদ ও ক্ষমা অর্জন করতে পারে, যদি তারা সঠিক পথে জীবন পরিচালনা করে এবং পাপ থেকে নিজেকে শুদ্ধ করে।
এছাড়াও তিনি দেশের মঙ্গলের জন্য এবং মানবজাতির কল্যাণে প্রার্থনা করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। শব‑এ‑বারাতের সময় মুসলিমদেরকে দেশের উন্নয়ন, সামাজিক সমৃদ্ধি ও জাতীয় একাত্মতার জন্য দোয়া করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের মতে, ইসলাম ধর্মের অপরিমেয় সৌন্দর্য দিয়ে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় জীবনকে আলোকিত করা সম্ভব, যদি মানুষ অন্যায়, অবিচার, অবৈধতা ও কুসংস্কার থেকে দূরে থাকে। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে সকলকে ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বার্তার শেষাংশে তিনি আল্লাহর ক্ষমা ও রক্ষার প্রার্থনা করে সকলকে আমিন বলার মাধ্যমে সমাপ্তি টেনেছেন।
এই শুভেচ্ছা বার্তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি শান্তি ও ঐক্যের বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারী নেতৃত্বের ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে সংযোগ জনমতকে একত্রিত করতে এবং সামাজিক সংহতি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, শব‑এ‑বারাতের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে সরকারী কর্মকর্তার সক্রিয় অংশগ্রহণ সাধারণ জনগণের মধ্যে নীতি-নির্ধারকদের প্রতি আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। তবে একই সঙ্গে তারা তর্ক করেন যে, ধর্মীয় বার্তা ও রাজনৈতিক লক্ষ্যকে আলাদা রাখা দরকার, যাতে ধর্মীয় অনুভূতি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না হয়।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের এই বার্তা শব‑এ‑বারাতের পবিত্রতা ও মানবিক মূল্যবোধকে তুলে ধরে, পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক আহ্বানগুলো রাজনৈতিক সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অব্যাহত থাকবে।



