19 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডাকসু থেকে জকসু, ১২ তারিখে জামায়াত-এ-ইসলামির ঐতিহাসিক র‍্যালি

ডাকসু থেকে জকসু, ১২ তারিখে জামায়াত-এ-ইসলামির ঐতিহাসিক র‍্যালি

চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আজ বিকেলে জামায়াত-এ-ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া র‍্যালিকে ‘ইতিহাস সৃষ্টির’ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান র‍্যালির সূচনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) থেকে এবং বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতা ১২ তারিখে শেষ হয়ে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন রেকর্ড গড়ে তুলবে।

বক্তা ফ্যাসিবাদী স্লোগানকে সমালোচনা করে বলেন, “আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেবো” শৈলীর দাবি আর শেষ হয়ে গেছে। এখন ভোটের অধিকারকে ‘হাত গুঁড়িয়ে’ নেওয়া হবে না, বরং সবার স্বতন্ত্র সিদ্ধান্তকে সম্মান করা হবে।

জনসভার মাঝখানে তিনি স্থানীয় ভাষায় উপস্থিতদের কাছে “আপনারা গম আছন নি?” জিজ্ঞাসা করে সংলাপের সুর তৈরি করেন। এরপর তিনি মাতাদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “মায়েরা আমাদের মাথার তাজ, তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে।” নিজের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি যুক্তি দেন, এই অভিযোগগুলো তার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকামী অবস্থানের ফল।

শফিকুর রহমান চট্টগ্রামের মানুষের বিচক্ষণতা ও সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা প্রকাশ করে বলেন, “আমি, আমরা, জামায়াত-এ-ইসলামি ক্ষমতায় আসতে চাই না; ক্ষমতা ১৮ কোটি মানুষের হাতে পৌঁছাতে হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার গঠন হলে সম্পদ ও সেবা সমানভাবে বিতরণ করা হবে এবং ১৩ তারিখের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতায় আনতে হবে।

পূর্বের ৫৪ বছরের উন্নয়নকে তিনি “যথেষ্ট নয়” বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যারা ভোটের আগে মিষ্টি কথা বলেছে, ভোট শেষ হতেই সুর পাল্টে ফেলেছে।” জুলাই মাসে জামায়াত-এ-ইসলামির ‘We Want Justice’ স্লোগানকে তিনি স্মরণ করে বলেন, “তোমার পাওনা তুমি নাও, আমার পাওনা আমাকে দাও।”

ভোট কেনার প্রচেষ্টা ও অর্থের লেনদেনকে তিনি “মানুষ নামের কলঙ্ক” বলে নিন্দা করেন। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষিত তরুণ-তরুণী এই ধরনের প্রথাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তা তিনি উল্লেখ করেন এবং “চাঁদাবাজদের পক্ষে না” বলে স্পষ্ট করেন।

দলীয় শাসন ও পরিবারতন্ত্রের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “আমরা দলীয় সরকারের রাজত্ব চাই না, পরিবারতন্ত্র চাই না; ১৮ কোটি মানুষের জন্য সরকার গঠনই আমাদের লক্ষ্য।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্যকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন।

সমাপনী অংশে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাতটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের রাজনৈতিক পরিকল্পনা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিতদের উচ্ছ্বাসের সাড়া শোনা যায়।

অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে এই র‍্যালি ও শফিকুর রহমানের মন্তব্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments