রোববার সন্ধ্যায় শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজে হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর নির্বাচনী অফিস ভ্রাম্যমাণ আদালত সিলগালা করেছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইখতেহার আহমেদ সায়েম নোমানীর নির্দেশে।
অফিসটি শায়েস্তাগঞ্জের ৭ নম্বর উবাহাটা ইউনিয়নের বড়কোটা বাজারে এবং একই ইউনিয়নের নতুন ব্রিজের সংলগ্ন আরেকটি স্থানে খোলা হয়েছিল। নির্বাচন আচরণবিধি অনুসারে এক ইউনিয়নে এক অফিসের সীমা নির্ধারিত, তবে দুইটি অফিস একসাথে চালু করা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে যে দুইটি অফিস একসাথে চালু করা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালত রোববার সন্ধ্যায় উভয় অফিসের মধ্যে নতুন ব্রিজের অফিসটি সিলগালা করে, লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সিলগালার সময় অফিসের দরজা বন্ধ, জানালা টেপে মোড়ানো এবং প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। অফিসের ভিতরে থাকা প্রচার সামগ্রী, ব্যানার এবং অন্যান্য উপকরণও সরিয়ে ফেলা হয়, ফলে অফিসটি কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইখতেহার আহমেদ সায়েম নোমানী জানান, আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে তদারকি বাড়ানো হবে।
মোমবাতি প্রতীক প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা ইসমাইল হোসেন নোমানী বলেন, রোববার তারা প্রচারণা থেকে ফিরে এসে অফিসটি সিলগালা দেখতে পেয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, বড়কোটা বাজারে থাকা অফিসটি তাদের নয়, সেখানে শুধুমাত্র প্রার্থীর ব্যানার ছিল।
মাওলানা ইসমাইল হোসেন নোমানী আরও যোগ করেন, মূল অফিসটি সিলগালা করা হয়েছে এবং বিষয়টি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি আশ্বাস দেন যে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী এক ইউনিয়নে একাধিক নির্বাচনী অফিস খোলা নিষিদ্ধ, লঙ্ঘন করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা স্থানীয় প্রশাসন সিলগালা, জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তি দিতে পারে। এই বিধি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার জন্য প্রণীত।
হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রচার কার্যক্রমে এই সিলগালা প্রভাব ফেলতে পারে, তবে উভয় পক্ষই বলছে যে প্রচার চালিয়ে যাবে এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এই ধরনের লঙ্ঘন ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে, তাই সকল প্রার্থীকে আইন মেনে চলতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, কোনো অতিরিক্ত লঙ্ঘন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আসন্ন নির্বাচনের তারিখের নিকটে সকল প্রার্থীকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রচার চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



