বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) নারী ক্রিকেটে প্রাক্তন ক্যাপ্টেন জাহানারা আলমের দ্বারা উত্থাপিত যৌনদুরাচরণ অভিযোগের তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেয়েছে। এই রিপোর্টটি পাঁচ সদস্যের একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয় এবং সোমবারের মধ্যে বোর্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়।
জাহানারা আলম, যিনি ২০১৯‑২০২১ সময়কালে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলেন, তার অভিযোগে দলীয় ব্যবস্থাপনা থেকে অনুপযুক্ত আচরণ ও শোষণের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। অভিযোগের পর BCB দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব নেয়।
প্রাথমিকভাবে কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন বিচারপতি তারিক উল হাকিম, যিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে পূর্বে বিচারক ছিলেন। অন্যান্য মূল সদস্য ছিলেন BCB ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা এবং নারী ক্রীড়া সমিতির সভাপতি, সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
পরবর্তীতে কমিটিতে দুইজন নতুন সদস্য যোগ করা হয়। প্রথমজন হলেন প্রফেসর ড. নৈমা হক, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পূর্বে চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বর্তমানে আইন কমিশনের সদস্য। দ্বিতীয়জন হলেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খান, যিনি সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট। এই দুইজনের যোগদানের মাধ্যমে কমিটির আইনি দক্ষতা ও স্বাধীনতা বাড়ে বলে বোর্ড জানায়।
কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা জানিয়েছেন যে, তদন্তের ফলাফলসহ রিপোর্টটি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়ে এখন পর্যন্ত বোর্ডের হাতে পৌঁছেছে। রিপোর্টে অভিযোগের মূল বিষয়, প্রমাণের ভিত্তি এবং প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো বিশদভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
তদন্তের সময়সূচি বেশ কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রথমবারের সময়সীমা বাড়ানো হয় ২ ডিসেম্বর, যখন BCB জানায় জাহানারা আলমকে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পনেরো দিন দেওয়া হবে। এরপর ২১ ডিসেম্বর বোর্ড আবার জানায় যে, স্বতন্ত্র কমিটি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেও রিপোর্টের প্রকাশে বিলম্ব দেখা যায়।
বিলম্বের পরিপ্রেক্ষিতে ২ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত একটি রুল জারি করে। আদালতের বেঞ্চ, যার সদস্য ছিলেন বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার, BCB-কে জিজ্ঞাসা করে কেন তাদের নীরব ভূমিকা অবৈধ ঘোষিত না হয়। রুলে বোর্ডকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে যে, তদন্তে তাদের অস্বচ্ছতা কীভাবে আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
উচ্চ আদালতের এই রুলের পর BCB এখনো রিপোর্টের বিষয়বস্তু প্রকাশ করেনি, তবে বোর্ডের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে রিপোর্টের বিষয়বস্তু যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হবে। তদন্তের ফলাফল ও সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
এই ঘটনার পর থেকে নারী ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের দাবি বাড়ছে। বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা ও অধিকার সংস্থা BCB-কে দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধে কড়া নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিভিন্ন মিডিয়া সূত্রের মতে, BCB-র অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রক্রিয়া ও সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল ও পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা করা হচ্ছে, যা নারী ক্রিকেটের সুনাম ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



