ব্যাটারি চালিত রিমোট কন্ট্রোল ড্রোনের ক্ষেত্রে নতুন গতি রেকর্ডের ঘোষণা করা হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে মাইক ও লিউক বেল জুটি বেঞ্জামিন বিগসের পূর্বের রেকর্ড ভেঙে গিয়েছিল, তবে ১৫ দিনের মধ্যে বিগস তার নিজস্ব তৈরি ‘ব্ল্যাকবার্ড’ ড্রোনের চতুর্থ সংস্করণ দিয়ে আবার শীর্ষে ফিরে এসেছেন।
বেঞ্জামিন বিগস, যিনি ডিআইওয়াই (নিজে তৈরি) প্রকৌশলীর পরিচয়ে পরিচিত, তার ড্রোনকে গড়ে ৬৬১ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা (৪১১ মাইল প্রতি ঘণ্টা) গতি অর্জন করাতে সক্ষম করেছেন। বাতাসের অনুকূলে ড্রোনটি একবার সর্বোচ্চ ৬৯০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা (প্রায় ৪২৯ মাইল প্রতি ঘণ্টা) গতি ছুঁয়েছে। যদিও রেকর্ডটি কোনো পেশাদার পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে যাচাই করা হয়নি, তবু ড্রোনের যান্ত্রিক সক্ষমতা প্রযুক্তি উত্সাহীদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
এই গতি অর্জনের পেছনে বিগসের বেশ কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কাজ করেছে। সাধারণত ড্রোনে একক ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তবে তিনি দুটি ব্যাটারিকে সিরিজে যুক্ত করে ওভারচার্জের মাধ্যমে ভোল্টেজ বাড়িয়ে নিয়েছেন। এই পদ্ধতি ভোল্টেজ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ড্রোনের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা পূর্বের তুলনায় কম রাখে, যা দীর্ঘ সময় উচ্চ গতি বজায় রাখতে সহায়তা করে। এই উদ্ভাবনী পদ্ধতি দেখিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী লিউক বেলও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা ভাবছেন।
যান্ত্রিক নকশার ক্ষেত্রেও বিগস উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন। ড্রোনের ডানা (উইং)কে পাতলা করার জন্য তিনি কাস্টমাইজড অ্যাম্যাক্স মোটর ব্যবহার করেছেন এবং মোটরগুলোকে ডানার সামনের দিকে স্থানান্তর করে গতি ও স্থিতিশীলতা বাড়িয়েছেন। এই নকশা পরিবর্তন ড্রোনের বায়ু প্রতিরোধ কমিয়ে গতি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছে।
ব্ল্যাকবার্ড ড্রোনের এই নতুন সংস্করণটি ডিআইওয়াই সম্প্রদায়ে বড় আলোড়ন তৈরি করেছে। ড্রোন উত্সাহীরা এখন ব্যাটারি সংযোগের পদ্ধতি, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নকশা অপ্টিমাইজেশন নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে, লিউক বেল জুটি বিগসের এই সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ড্রোন প্রযুক্তি দ্রুতই বিভিন্ন শিল্পে প্রয়োগের দিক বাড়াচ্ছে। উচ্চ গতি অর্জনকারী ড্রোনগুলো জরুরি পরিবহন, জরুরি সেবা, কৃষি পর্যবেক্ষণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারিক সম্ভাবনা রাখে। বিশেষ করে ব্যাটারি চালিত ড্রোনের ক্ষেত্রে গতি ও স্থায়িত্বের উন্নতি দীর্ঘ দূরত্বে দ্রুত ডেটা সংগ্রহ ও প্যাকেজ ডেলিভারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বেঞ্জামিনের এই সাফল্য ডিআইওয়াই সংস্কৃতির শক্তি তুলে ধরে। স্বল্প সময়ে পুনরায় রেকর্ড ভাঙা দেখায় যে ব্যক্তিগত উদ্ভাবকরা বড় কোম্পানির তুলনায় দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি করতে সক্ষম। ভবিষ্যতে ড্রোনের গতি সীমা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বাণিজ্যিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সারসংক্ষেপে, বেঞ্জামিন বিগসের ব্ল্যাকবার্ড ড্রোন গড়ে ৬৬১ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতি অর্জন করে ড্রোনের গতি রেকর্ডে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। যদিও রেকর্ডটি এখনও অনানুষ্ঠানিক, তবে প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ড্রোনের পারফরম্যান্সে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত। এই সাফল্য ডিআইওয়াই সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করবে এবং ড্রোন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে।



