শেরপুরের ঝিনাইগাঁতি উপজেলায় জামায়াতের নেতা মারাত্মক হত্যা মামলায় ৪০ জন বিএনপি নেতা ও কর্মীর অ্যান্টিসিপেটরি বেইল অনুমোদন নিয়ে জামায়াত‑ইসলামি উচ্চ আদালতে কঠোর বিরোধ প্রকাশ করেছে। শেরপুর‑৩ নির্বাচনী এলাকা থেকে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ এই নেতাদের বেইল অনুমোদনকে অবৈধ বলে দলটি উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শেরপুরের মঘবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় অফিসে আজ বিকালে একটি সংবাদ সম্মেলনে দলটির সহকারী সচিব জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার সচিব আহসানুল মাহবুব জুবায়ের উল্লেখ করেন, এই বেইল অনুমোদন কোনো যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি ছাড়া করা হয়েছে। তিনি বলেন, হত্যাকারীরা দিনের আলোয় স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আর শিকারীর পরিবার এখনও শোক ও কষ্টে ভুগছে।
জুবায়ের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত আইন শাসনের প্রতি আঘাত এবং জনগণের আস্থা ক্ষয় করে। তিনি জানান, দলটি এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে উচ্চতর আদালতে বিষয়টি তুলে ধরবে। এছাড়া তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বেইল অনুমোদন কি অপরাধীদের প্রতি কোনো রকমের মৃদুতা নির্দেশ করে কিনা।
মহামারী নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে, জুবায়ের মতে, এই ‘সনাক্ত করা অপরাধী’দের দ্রুত বিচারাধীন করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা এই ঘটনার মূল কারণ।
মৌলানা রেজাউল করিম, জামায়াতের শ্রীবাড়ি উপজেলা ইউনিটের সেক্রেটারি, ৪০ বছর বয়সে ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাঁতিতে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন। আহত অবস্থায় তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়, তবে সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৌলানা রেজাউল করিমের স্ত্রী মারজিয়া বেগম ৩০ জানুয়ারি ঝিনাইগাঁতি থানা-তে তার হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেরপুর‑৩ের বিএনপি প্রার্থী রুবেলকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আজকের শুনানিতে অ্যান্টিসিপেটরি বেইল পিটিশনের ওপর উচ্চ আদালত রায় দেয়, যা রুবেলসহ অন্যান্য ৩৯ জনকে সাময়িক মুক্তি দেয়। রায়ের পর জামায়াতের নেতারা তৎক্ষণাৎ আইনি চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নেন।
দলটির প্রকাশ্য বক্তব্যে বলা হয়েছে, বেইল অনুমোদন অপরাধীদের জন্য এক ধরনের সুরক্ষা দেয় এবং তা দেশের আইন শাসনের নীতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। জামায়াতের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, শিকারের পরিবার ও স্থানীয় জনগণের কষ্ট অব্যাহত থাকবে, যদি না দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত বিচার হয়।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শেরপুরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় আইন প্রয়োগের স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াতের আপিলের ফলাফল ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
দলটি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি সমালোচনা করে, দাবি করে যে তারা অপরাধীদের উপর যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। জামায়াতের কর্মকর্তারা জানান, তারা আইনগত পথে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং উচ্চ আদালতে রায়ের পুনর্বিবেচনা চাবে।
অবশেষে, শেরপুরের এই মামলায় বেইল অনুমোদন ও জামায়াতের আপিলের পরিণতি দেশের আইন শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে। উভয় পক্ষের আইনি লড়াইয়ের ফলাফল নির্বাচনী সময়সীমার কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করবে।



