সোামবার, ২ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় প্রেসক্লাবের মাঠে জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্টের আয়োজনে “গণমাধ্যম উৎসব ২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকতার মানদণ্ডে কঠোরতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের কোনো পরিস্থিতিতেই দলীয় লেজুড়বৃত্তি ত্যাগ করে পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সমাজে সম্মান অর্জন করতে হবে।
উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের হুমকি-ধামকির ভাষা পরিহার করতে এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা রক্ষা করতে নির্দেশ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মতবিরোধ থাকা স্বাভাবিক, তবে তা বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণে রূপান্তরিত না হলে সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য ক্ষুণ্ন হয়।
বক্তা স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবির্ভাব রোধে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকতে হবে, এমনই তার মন্তব্য। সংবিধানে গৃহীত বাকস্বাধীনতা ও সমিতি গঠনের অধিকারকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে গণমাধ্যমকে স্বতন্ত্র রাখতে হবে, তিনি উল্লেখ করেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সাংবাদিকদেরকে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করেন।
অনুষ্ঠানে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামানও বক্তব্য রাখেন। তিনি সাংবাদিকদের জীবিকাকে সম্মানজনক করে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, যাতে ফ্যাসিবাদী শক্তি তাদের ব্যবহার করে না। তার কথায় সাংবাদিকতার স্বনির্ভরতা ও নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান স্পষ্ট হয়।
এছাড়া এনসিপিআই (এনসিপিআই) এর মাহবুব আলম, বিএফইউজের ওবায়দুর রহমান শাহীন এবং ডিইউজের শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। তারা সকলেই সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
উৎসবের সমাপ্তিতে আসন্ন গণভোট ও নির্বাচনের সময় সাংবাদিকদের সহযোগিতার জন্য একটি হটলাইন নম্বর (০৯৬৪৪১১১৪৪৪) উদ্বোধন করা হয়। এই নম্বরের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা এবং কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের এই আহ্বান এবং হটলাইন উদ্বোধন দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, পেশাদার সাংবাদিকতা না থাকলে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, এই উদ্যোগের ফলে মিডিয়া সংস্থাগুলো নির্বাচনী সময়ে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ কমে যাবে। তবে বাস্তবে হটলাইন ব্যবহারের কার্যকারিতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এখনও রয়ে গেছে।
সামগ্রিকভাবে, তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য এবং হটলাইন উদ্বোধন সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



