উত্তরা পশ্চিম থানা আজ প্রাতঃকালীন ৩:৩০ টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও Md Shafiqur Rahman এবং তার স্ত্রী Bithi‑কে ১১ বছর বয়সী গৃহকর্মীর নির্যাতনের সন্দেহে গ্রেফতার করেছে। একই সময়ে উক্ত দম্পতির সঙ্গে দুইজন গৃহকর্মী, Rupali Khatun (৩৫) ও Sufia Begum (৫৫),ও আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা উত্তরা সেক্টর‑৯-এ অবস্থিত তাদের বাসা থেকে নেওয়া হয়, যা থানা প্রধান ক্যাডি রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।
থানার দলটি প্রাতঃকালীন সময়ে বাড়িতে প্রবেশ করে, সন্দেহভাজনদের আটক করে এবং তাদের সঙ্গে নেওয়া সামগ্রী পরীক্ষা করে। গ্রেফতারকৃত চারজনকে একই দিনে ঢাকা আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে উপস্থিত হয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাদের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলখানায় রাখার আবেদন করে।
অভিযোগের মূল সূত্র হল একটি হোটেল কর্মচারী, যিনি জুন ২০২৫-এ তার কন্যাকে Shafiqur ও Bithi‑কে সঁপে দেন, কারণ দম্পতি কন্যার ভবিষ্যৎ খরচ, বিশেষ করে বিয়ের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হোটেল কর্মচারী জানান, তিনি শেষবার ২ নভেম্বর ২০২৫-এ কন্যাকে সুস্থ অবস্থায় দেখেছিলেন, তবে পরবর্তীতে কন্যার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা থেকে বাধা পেয়েছিলেন।
৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এ Bithi‑এর ফোনে কন্যা অসুস্থ বলে জানিয়ে তাকে নিতে আহ্বান করা হয়। একই দিন সন্ধ্যা প্রায় ৭ টায় হোটেল কর্মচারী বাড়িতে পৌঁছান, যেখানে কন্যা গুরুতর আঘাতসহ হস্ত ও শরীরের অন্যান্য অংশে চোট পেয়ে তাকে হস্তান্তর করা হয়। কন্যা কথা বলতে অক্ষম অবস্থায় ছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থার তীব্রতা নির্দেশ করে।
কন্যাকে তৎক্ষণাৎ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কন্যা জানান, তাকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ও অন্যদের দ্বারা মারধর করা হয় এবং গরম ধাতব যন্ত্র দিয়ে পোড়ানো হয়। এই তথ্য কন্যার মুখে শোনা গিয়ে তদন্তকারী দলকে জানানো হয়।
পুলিশের তদন্তে পাওয়া মামলার নথি অনুযায়ী, কন্যার শারীরিক ক্ষতি শুধুমাত্র শারীরিক আঘাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানসিক ট্রমারও সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা কন্যার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে ইচ্ছুক।
আদালতে উপস্থিত হয়ে পুলিশ শিকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের জেলখানায় রাখা হবে এমন অনুরোধ করে। আদালত এই অনুরোধ অনুমোদন করে, ফলে চারজন সন্দেহভাজনকে জেলখানায় রাখা হয়।
এই ঘটনার পর, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গৃহকর্মী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নজরদারি বাড়িয়ে দেবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া, গৃহকর্মী নিয়োগের সময় পিতামাতার সতর্কতা ও আইনি সুরক্ষার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, মামলাটি এখনো চলমান এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী অতিরিক্ত সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানানো হয়েছে, মামলায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ধরনের সংবেদনশীল মামলায় কন্যার গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং তার পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে বলে সরকারী সংস্থা নিশ্চিত করেছে। মামলার ফলাফল ও পরবর্তী আদালত শোনার তারিখের তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।



