মিডফিল্ডার রোড্রি ম্যানচেস্টার সিটি দলের পক্ষ থেকে রেফারির ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ টটেনহ্যাম ম্যাচে এক বিতর্কিত গোল অনুমোদিত হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, রেফারির কাজ হওয়া উচিত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকা, বিশেষ করে যখন দলটি কঠোর পরিশ্রমের পরেও অনুকূল সিদ্ধান্ত না পায়। এই মন্তব্যটি টটেনহ্যাম এবং ম্যানচেস্টার সিটি ২-২ ড্রের পর প্রকাশিত হয়।
টটেনহ্যাম এবং ম্যানচেস্টার সিটি ২-২ সমান স্কোরে শেষ করেছে, যেখানে ডমিনিক সোলাঙ্কের প্রথম গোলটি বিশেষভাবে আলোচ্য হয়েছে। সোলাঙ্কের শটটি ম্যানচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার মার্ক গুইহির পা দিয়ে গিয়ে বলটি নেটের দিকে গড়িয়ে দেয়, ফলে রেফারিরা তা বৈধ বলে চিহ্নিত করে। পরে সোলাঙ্ক একটি চমকপ্রদ ভলিতে সমান স্কোর করে, যা ম্যাচটিকে ড্রতে নিয়ে আসে। এই ফলাফলে ম্যানচেস্টার সিটি আর্সেনাল থেকে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে থাকে, যা প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা দল। ম্যাচের পরিপ্রেক্ষিতে টটেনহ্যামের দু’গোলের মধ্যে সোলাঙ্কের প্রথম গোলটি মূলত গুইহির পা ছেদ করার কারণে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়ায়।
ম্যানচেস্টার সিটি প্রধান কোচ পেপ গুআরডিয়োলোও এই ঘটনার ওপর মন্তব্য করেন, তিনি বলেন সোলাঙ্ক গুইহির পা ছেদ করে ফাউল করেছে। গুআরডিয়োলো এই রেফারিং সিদ্ধান্তকে দলটির ওপর অনুকূল নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি রেফারির কাজের প্রতি সম্মান প্রকাশ করলেও, এমন স্পষ্ট ফাউলকে নোট করা প্রয়োজন বলে জোর দেন।
রোড্রি বলেন, “আমরা বেশি জিতেছি, তাই মানুষ আমাদের জয় দেখতে চায় না, কিন্তু রেফারিরা নিরপেক্ষ থাকতে হবে।” তিনি যোগ করেন, “এটা ন্যায়সঙ্গত নয়, কারণ আমরা কঠোর পরিশ্রম করি। সবকিছু শেষ হলে হতাশা স্বাভাবিক।” রোড্রি আরও উল্লেখ করেন, যদি সোলাঙ্কের প্রথম গোল না হতো তবে ম্যানচেস্টার সিটি জয় পেতে পারত। তিনি বলেন, একাধিক ম্যাচে একই ধরনের রেফারিং সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি দলকে হতাশ করে।
রোড্রির পূর্বের মন্তব্যে তিনি রেফারিদের কাজের প্রতি সম্মান প্রকাশ করে বলেন, “আমি কখনো রেফারিদের সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলি না, তাদের কাজের প্রতি আমি গভীর সম্মান রাখি।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রেফারিদের এমন স্পষ্ট ফাউলগুলোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে, যেমন গুইহির পা ছেদ করা। রোড্রি উল্লেখ করেন, “এটি দুই-তিনটি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে ঘটছে, এবং আমি বুঝতে পারছি না কেন এভাবে হচ্ছে।” তার এই মন্তব্যগুলো দলীয় অভ্যন্তরে রেফারিং নিয়ে বাড়তে থাকা অসন্তোষকে প্রতিফলিত করে।
টটেনহ্যাম ম্যাচের পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটি সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছে। কারাবাও কাপের নিউক্যাসল ম্যাচে অঁতোয়ান সেমেন্যোর গোল বাতিল করা হয়, যা সিটি দলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিয়োগো দালোটকে ডার্বি ম্যাচে জেরেমি ডোকুর ওপর স্টাডস-আপ ফাউল করলেও লাল কার্ড থেকে রক্ষা করা হয়। এছাড়া উলভসের বিরুদ্ধে একটি হ্যান্ডবলের জন্য পেনাল্টি দেওয়া হয়নি, যা সিটি ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এসব ঘটনা রোড্রি এবং গুআরডিয়োলোকে রেফারির ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে।
প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান অবস্থান বিবেচনা করলে ম্যানচেস্টার সিটি শীর্ষে থাকা আর্সেনালের থেকে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে এবং শিরোপা জয়ের জন্য প্রতিটি পয়েন্টের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়। রোড্রি এবং গুআরডিয়োলো উভয়ই রেফারির ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন, যাতে দলটি তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করতে পারে। পরবর্তী ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি আবার শিরোপা শিরোপা জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের লক্ষ্য রাখবে, এবং রেফারির ন্যায়পরায়ণতা দলীয় মনোবলকে প্রভাবিত করবে।
এই পরিস্থিতিতে ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ রেফারির কাজের প্রতি সম্মান বজায় রেখে, ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট এবং ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছেন। দলটি এখনো লিগের শীর্ষে ফিরে আসার জন্য কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাবে, এবং রেফারির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এমন একটি পরিবেশে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাবে।



