ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) গতকাল সন্ধ্যা প্রায় সাতটায় শের‑এ‑বাংলা নগর এলাকার জিয়া উদ্যান হ্রদের দক্ষিণ‑পশ্চিম প্রান্তে এক পূর্ণ‑সময় (এশার) সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারটি কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (CTTC) ইউনিটের অপারেশন অনুসরণে সম্পন্ন হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ৫০ বছর বয়সী আহসান জাহির খান, যাকে নিউ জিএমবি (Neo JMB) গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিউ জিএমবি একটি নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন, যার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর আইনগত নিষেধাজ্ঞা আরোপিত।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, আহসান ও তার সহচররা রাষ্ট্রের সম্পদকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ধ্বংসাত্মক কাজের পরিকল্পনা করছিল। যদিও সহচরদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি, তবে তাদের কর্মকাণ্ডের পটভূমি গোষ্ঠীর আদর্শে প্রভাবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানকালে প্রকাশ পেয়েছে যে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছিল। এই মাধ্যমগুলোতে তারা ভিন্ন ভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে গ্রুপ চ্যাট, ব্যক্তিগত চ্যাট এবং চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখত।
প্ল্যাটফর্মগুলোতে গোপনীয়তা বজায় রেখে তারা চরমপন্থী মতাদর্শ ও লক্ষ্যকে অগ্রসর করার জন্য তথ্য শেয়ার ও সমন্বয় করত। এই ধরনের ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে গোষ্ঠীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজের পরিকল্পনা তৈরি করত এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুতি নিত।
আহসানের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানা থেকে অ্যান্টি‑টেররিজম অ্যাক্টের অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাটি পূর্বে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে রেকর্ডে রয়েছে।
আজ ঢাকা শহরের একটি আদালতে আহসানকে উপস্থিত করা হয়েছে। উপস্থিতির সময় তাকে শের‑এ‑বাংলা নগর থানার অ্যান্টি‑টেররিজম অ্যাক্টের মামলায় জড়িত করা হয়েছে। আদালতে তার বিরুদ্ধে উভয় মামলার সংযুক্তি এবং প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হয়েছে।
আদালতের রায়ের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় আহসানকে জামিনের শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়; তবে তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার অধীন রয়েছেন।
CTTC ইউনিটের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, এই ধরণের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের কার্যক্রম রোধে তারা ডিজিটাল নজরদারি ও ক্ষেত্রভিত্তিক অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে সমজাতীয় অপরাধের সম্ভাবনা কমাতে তারা তথ্য বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াবে।
নিউ জিএমবি গোষ্ঠীকে ২০১৯ সালে সরকার নিষিদ্ধ করে এবং তার সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই গ্রেফতারটি গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করার লক্ষ্যে নেওয়া বৃহত্তর নিরাপত্তা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অধিক তদন্তের মাধ্যমে গোষ্ঠীর অবশিষ্ট সদস্যদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চরমপন্থী কন্টেন্টের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতাদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে।
এই ঘটনার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জনসাধারণকে সতর্ক করেছে যে, সন্দেহজনক কোনো অনলাইন যোগাযোগ বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপের তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানাতে হবে। এভাবে সন্ত্রাসী পরিকল্পনা রোধে সমষ্টিগত সচেতনতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।



