২০২৬ সালের বিশ্বকাপের শুরুর ছয় মাসের কম সময় বাকি, এবং গার্ডিয়ান পাঠকরা টিকিট কেনা অথবা না কেনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছে। ফিফার টিকিটিং ব্যবস্থা উচ্চ চাহিদা ও বিতর্কের মুখে, আর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী ভক্তদের নিরাপত্তা উদ্বেগও বাড়ছে।
পাঠকদের মধ্যে একজনের গল্প বিশেষভাবে দৃষ্টিগোচর, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডা রপ্তানিতে শুল্ক আরোপের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সম্পূর্ণ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে, ফিফা যখন “ডোমেস্টিক এক্সক্লুসিভিটি” পর্যায়ে তাকে নির্বাচিত করে, তিনি কানাডার শেষ গ্রুপ ম্যাচের টিকিট কেনার সুযোগ পেয়ে তা গ্রহণ করেন।
অনলাইন টিকিট ক্রয়ের প্রক্রিয়া বেশ জটিল ছিল; সাইটে ঘড়ির কাঁটা বিপরীত দিকে ঘুরে, ধীর গতিতে চলা একটি কাউন্টডাউন এবং একাধিক লগইন চাহিদা দেখা যায়। এই জটিলতা সত্ত্বেও, প্রায় নব্বই মিনিটের অপেক্ষার পর তিনি এবং তার পরিবারকে কানাডার শেষ গ্রুপ গেমের টিকিট নিশ্চিত করতে সক্ষম হন। টিকিটের মূল্য কানাডিয়ান ২৭০ ডলার, যা উচ্চমূল্য হলেও উত্তর আমেরিকান ক্রীড়া ইভেন্টের টিকিট মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন এনএফএল বা এনএইচএল গেমের টিকিট।
টিকিটের দাম ছাড়াও, ভ্যানকুভারের বাইরে হোটেল বুকিংয়ের খরচ লেখকের জন্য আরও বেশি চমকপ্রদ ছিল। হোটেলের দাম টিকিটের মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা ভ্রমণ পরিকল্পনায় আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দেয়।
অন্য একটি পাঠক, উইনিপেগের জন, ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসের সময় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ভাগ করেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন এবং অস্ট্রেলিয়ান সরকারের কাছ থেকে ট্যাক্স রিবেট পাওয়ার আশায়, তিনি এবং তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে ভ্রমণ করে কিছু ম্যাচ দেখার পরিকল্পনা করেন। টিকিটের জন্য নিবন্ধন এবং প্রাথমিক ভ্রমণসূচি তৈরি করা হয়েছিল।
কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইনফ্যান্টিনোর হোয়াইট হাউস সম্মেলনের পর, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ও পর্যটকদের প্রতি আচরণ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলো জনকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করার সম্ভাবনা পুনর্বিবেচনা করে, টিকিট ও ভ্রমণ খরচে কোনো টাকা ব্যয় না করার সিদ্ধান্ত নেন।
গার্ডিয়ান পাঠকদের এই অভিজ্ঞতা টিকিটের উচ্চমূল্য, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক পরিবেশের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। টিকিটের চাহিদা ও মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি, পাশাপাশি ভ্রমণকারী ভক্তদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ, ভবিষ্যতে টিকিট বিক্রয় প্রক্রিয়ার উন্নতির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
ফিফা এখনও টিকিটের সরবরাহ ও চাহিদা সামঞ্জস্য করার জন্য বিভিন্ন ধাপ চালু করেছে, তবে পাঠকদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে অনলাইন সিস্টেমের ব্যবহারিকতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী ভক্তদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য পরিষ্কারভাবে প্রদান করা, টিকিট বিক্রয়ের সাথে যুক্ত উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হবে।
এইসব গল্পের মাধ্যমে দেখা যায়, ক্রীড়া ইভেন্টের টিকিট কেনা শুধুমাত্র আর্থিক বিষয় নয়, বরং ভৌগোলিক, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। পাঠকরা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পেছনে এই সব বিষয়কে বিবেচনা করেছেন, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য ভক্তদের জন্যও নির্দেশক হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, গার্ডিয়ান পাঠকদের শেয়ার করা অভিজ্ঞতা ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রয় প্রক্রিয়ার জটিলতা, উচ্চমূল্য, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিবেশের প্রভাবকে একত্রে উপস্থাপন করে। এই তথ্যগুলো টিকিট বিক্রয় নীতি ও ভক্তদের সেবা উন্নত করার ক্ষেত্রে মূল্যবান রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।



