24 C
Dhaka
Monday, May 4, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ভারতীয় মিডিয়ার মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ...

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ভারতীয় মিডিয়ার মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেন

ঢাকা, ২ ফেব্রুয়ারি – প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সোমবার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘পলিসি কনক্লেভ অন মিসইনফরমেশন : চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক নীতিসংলাপে ভারতীয় মিডিয়া পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতীয় বাংলা পত্রিকাগুলোর মধ্যে কিছু দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ নিয়ে সঠিক তথ্য প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছে।

শফিকুল আলমের মতে, ভারতের বেশ কয়েকটি বাংলা দৈনিক, যার মধ্যে আনন্দবাজারের মতো সর্বাধিক পঠিত প্রকাশনাও অন্তর্ভুক্ত, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন ছড়িয়ে দিয়ে দু’পাশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের প্রচেষ্টা কেবল একক ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, আনন্দবাজারের সাম্প্রতিক প্রকাশনায় বাংলাদেশ সংক্রান্ত তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যদিও এই পত্রিকাটি ভারতে বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয়। তিনি এধরনের ভুল তথ্যকে “মিসইনফরমেশন” হিসেবে চিহ্নিত করে, এর প্রভাবকে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে নেতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন।

শফিকুল আলমের বক্তব্যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, ভারতীয় মিডিয়া এই মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রচেষ্টা একাধিক স্তরে সমন্বিত এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

ডিআইইউর কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত নীতিসংলাপটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সহযোগিতায় ডিআইইউসাস (ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি) এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়। সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল মিসইনফরমেশন কীভাবে শাসন ও গণতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করে তা বিশ্লেষণ করা এবং প্রতিকারের পথ নির্ধারণ করা।

শফিকুল আলম বলেন, “আমরা সবাই গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছি, তবে এর বিপরীতে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী কাজ করছে।” তিনি এই গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং তা মোকাবিলার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে গত ৫৪ বছর পর্যন্ত কোনো সরকার এমন স্তরের মিথ্যা তথ্যের সম্মুখীন হয়নি। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, এই মিথ্যা তথ্য কি স্বয়ং দেশের কোনো গোষ্ঠী তৈরি করছে, নাকি বাহ্যিক কোনো শক্তি এই প্রক্রিয়ায় লিপ্ত হয়েছে।

শফিকুল আলমের মতে, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সরকার একটি “স্মুথ ট্রানজিশন” অর্থাৎ ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনগণ একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক যুগের প্রত্যাশা করছে এবং তা অর্জনের জন্য সকল স্তরের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, ভারতীয় মিডিয়ার মিথ্যা তথ্যের অভিযোগ যদি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পায়, তবে তা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ সরকার মিসইনফরমেশন মোকাবিলায় আইনগত ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

অবশেষে, শফিকুল আলমের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, মিসইনফরমেশনকে রোধ করার জন্য সরকার, মিডিয়া এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি আহ্বান জানান, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষ মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments