সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের বেঞ্চ একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যা পি.কে. হালদারের চার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর আন্তর্জাতিক ভ্রমণকে রোধ করে। এই আদেশটি আদালতে দাখিল করা এক আবেদনপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছেন আন্তর্জাতিক লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমদাদুল ইসলাম, কোম্পানি সচিব রেজাউল ইসলাম এবং হেড অব রিকোভারী আবু মো. আল মামুন। তারা সকলেই পি.কে. হালদারের নিকটের সহযোগী ও তার স্বার্থে কাজ করা বলে চিহ্নিত।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হালদার ও তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং অভিযোগের তদন্তে একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের মতে, তদন্তকারী কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে এই চারজন অভিযুক্ত বিদেশে পালিয়ে যেতে পারে, যা তদন্তের স্বচ্ছতা ও ফলাফলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় আদালত সিদ্ধান্ত নেয় যে, মামলাটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ ও ইমিগ্রেশন অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
বেঞ্চের সহকারী জজ মো. রিয়াজ হোসেন বাসসও আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং আদেশের বৈধতা নিশ্চিত করেন। জজগণ জোর দিয়ে বলেন যে, এই রোধটি অভিযুক্তদের দোষারোপ নয়, বরং তদন্তের স্বার্থে গৃহীত একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
পি.কে. হালদার, যিনি পূর্বে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তার বিরুদ্ধে বৃহৎ আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বহু ডিপোজিটরির সঞ্চয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এই স্ক্যামটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।
গত বছর থেকে এই নেটওয়ার্কের সম্পদ জব্দের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ এবং ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন সম্পদ জব্দের আদেশ জারি করা হয়, যার মোট মূল্য কয়েক শত কোটি টাকা। এই জব্দগুলো হালদার ও তার সহযোগীদের আর্থিক অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধান দলটিতে অ্যান্টি‑করাপশন কমিশন, ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং পুলিশ অর্থনৈতিক অপরাধ ইউনিটের কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত। তাদের কাজ হল অবৈধ তহবিলের গতি অনুসরণ করা, শেল কোম্পানি চিহ্নিত করা এবং সম্পদের উৎস উন্মোচন করা।
যদি অভিযুক্তরা এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেন, তবে আদালত তাদের বিরুদ্ধে অবমাননা (কন্টেম্প) মামলাও দায়ের করতে পারে। পাশাপাশি, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী তাদের অপরাধের শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ড ও জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে, যা মাসের শেষের দিকে নির্ধারিত। সেই শুনানিতে তদন্ত দল তাদের অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দেবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা বা অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখনো অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেনের ওপর নজর রাখছে এবং কোনো বিদেশি অ্যাকাউন্টে তহবিল স্থানান্তর হলে তা তৎক্ষণাৎ তদন্তের আওতায় নেবে। এই পর্যবেক্ষণ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধের বিদ্যমান কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
এই নিষেধাজ্ঞা আদালতের ইচ্ছা প্রকাশ করে যে, হালদার নেটওয়ার্কের তদন্তে কোনো বাধা না থাকে এবং সন্দেহভাজনরা যদি বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে পালিয়ে যায়, তবে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। ভবিষ্যতে আরও কোনো সহযোগীকে একই রকম রোধের মুখে পড়তে হতে পারে, যা তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
মামলাটি বর্তমানে সক্রিয় পর্যায়ে রয়েছে এবং পরবর্তী আদালতিক পর্যালোচনা ও তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



