বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের দাম সোমবার হ্রাস পায়, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কেভিন ওয়ার্শকে সম্ভাব্য ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই দুই বিষয়ই বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করে স্বর্ণের মূল্যে নিম্নমুখী প্রবণতা সৃষ্টি করেছে।
সিক্স মার্কেট (CME) গ্রুপ সোমবার ঘোষণা করেছে যে স্বর্ণ ফিউচারের মার্জিন ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করা হবে। একই সঙ্গে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম ফিউচারের মার্জিনও বৃদ্ধি পাবে, যেখানে রুপার মার্জিন ১১ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উঠবে। মার্জিন বাড়লে ট্রেডারদের বেশি নগদ জামানত রাখতে হয়, ফলে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে।
বাজারের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মার্জিনের এই বৃদ্ধি সরাসরি স্বর্ণের সরবরাহকে কমায় না, তবে ট্রেডারদের পজিশন হ্রাস করতে বাধ্য করে, যা স্বল্পমেয়াদে দামকে নিচের দিকে ঠেলে দেয়। মার্জিন বাড়ার ফলে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণ বিক্রি করে নগদ রিজার্ভ বাড়াতে চান, ফলে দাম দ্রুত কমে যায়।
মার্কিন স্পট বাজারে স্বর্ণের দাম বর্তমানে এক আউন্সে ৪,৭০২.৯৫ ডলার, যা পূর্বের সেশনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। দুই সপ্তাহের মধ্যে দাম ৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়ে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। গত বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চ ৫,৫৯৪.৮২ ডলারে পৌঁছেছিল, যা এখন থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে এসেছে।
এপ্রিল মাসের ফিউচার্স চুক্তিতে স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে ৪,৭২৯.২০ ডলারে নেমে এসেছে। এই পতনটি বাজারে সরবরাহের প্রত্যাশা ও মার্জিন বৃদ্ধির সমন্বয়ে ঘটেছে, যা ট্রেডারদের পজিশন সমন্বয়কে ত্বরান্বিত করেছে।
CME-র চিফ ট্রেড অ্যানালিস্ট টিম ওয়াটারার উল্লেখ করেছেন, কেভিন ওয়ার্শের মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে বাজারে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, তবে স্বর্ণের দাম এত বড় হ্রাসের জন্য একক কারণ হিসেবে তা যথেষ্ট নয়। মার্জিন বাড়ানো এবং সম্ভাব্য সুদের হার পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা একসাথে বাজারে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করেছে।
মার্জিন বৃদ্ধির পাশাপাশি, বিনিয়োগকারীরা ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, ২০২৬ সালে অন্তত দুবার সুদের হার কমানো হতে পারে, তবে তা নিশ্চিত না হলে স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদের চাহিদা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। সুদের হার কমার সম্ভাবনা অনিশ্চিত থাকায় স্বর্ণের দাম নিচের দিকে টানে।
বাজারে দেখা যাচ্ছে, স্বর্ণের দাম হ্রাসের ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে রূপান্তরিত হচ্ছেন। মার্জিন বাড়ার ফলে ট্রেডারদের নগদ রিজার্ভ বাড়াতে হয়, ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে এবং দাম আরও নিচে নামতে পারে। এই পরিস্থিতি স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তার আকর্ষণ হারাতে বাধ্য করছে।
ফেডারেল রিজার্ভের নীতি সিদ্ধান্ত এখনও স্পষ্ট নয়, তবে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা না থাকলে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রাখতে পারে। অন্যদিকে, যদি ফেডারেল রিজার্ভ দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে এবং সুদের হার কমায়, তবে স্বর্ণের দাম পুনরায় উত্থান পেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, স্বর্ণের দাম হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে CME-র মার্জিন বৃদ্ধি, কেভিন ওয়ার্শের সম্ভাব্য ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান মনোনয়ন এবং সুদের হার নীতির অনিশ্চয়তা উল্লেখযোগ্য। বাজারে এই তিনটি উপাদান একসাথে কাজ করে স্বর্ণের দামকে নিচের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, যদি মার্জিনের হার স্থায়ী থাকে এবং সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা অনিশ্চিত থাকে, তবে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রাখতে পারে। তবে ফেডারেল রিজার্ভের নীতি পরিবর্তন বা অন্যান্য নিরাপদ সম্পদের চাহিদা বাড়লে স্বর্ণের দাম পুনরায় স্থিতিশীল হতে পারে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এই দুইটি দিক পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।



