বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সোমবার বিকেলে খুলনার খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে নারী অধিকার সংক্রান্ত সতর্কতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অপমান করে এমন দলকে ভোটের পর কীভাবে আচরণ করা হবে তা নির্ধারণের সময় এসেছে।
তারেক রহমানের মন্তব্যের পটভূমি হল জামায়াত-এ-ইসলামির আমির শফিকুর রহমানের এক্স-অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ‘নারী বিদ্বেষী’ পোস্ট। ঐ পোস্টে বলা হয়েছে, নারীর নেতৃত্ব অসম্ভব, আল্লাহ তা অনুমোদন করেন না এবং আধুনিকতার নামে নারীদের ঘর থেকে বের করা হলে তারা শোষণ ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়।
পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়। প্রায় নয় ঘণ্টা পর জামায়াত-এ-ইসলামি দল দাবি করে যে তাদের প্রধানের এক্স-অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে পোস্টটি প্রকাশিত হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের দল এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে। তিনি বলেন, আইডি হ্যাক হওয়া প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব নয় এবং এমন দাবি মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য মিথ্যা কথা বলা দলীয় নেতারা মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত।
তারেক রহমানের বক্তব্যের মূল বিষয় হল, যারা নারীদের অপমান করে এবং ধর্মকে স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করে, তাদের ভোটের পর কী ধরনের নীতি ও আচরণ করা হবে তা নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এমন দলকে দায়িত্বশীল করা উচিত।
শফিকুর রহমানের এক্স-অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নারীর প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান বিভ্রান্তিকর নয়, বরং নীতিগত। তিনি যুক্তি দেন, নারীর নেতৃত্বের স্বীকৃতি ইসলামিক নীতি বিরোধী এবং তাই তা অনুমোদিত নয়।
পোস্টের বিষয়বস্তুতে আরও বলা হয়েছে, যখন নারীরা আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়, যা অন্য রূপে পতিতাবৃত্তির সমতুল্য। এই বিবৃতি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে।
জামায়াত-এ-ইসলামি দল পোস্টের হ্যাকিং দাবি করে, তবে তারেক রহমানের দল আইটি বিশেষজ্ঞের মতামত তুলে ধরে যে হ্যাকিংয়ের কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, এক্স-অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ কাজ।
বিএনপি চেয়ারম্যানের মতে, এমন মিথ্যা পোস্টের মাধ্যমে দলীয় নেতারা জনগণের সামনে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর। তিনি দলীয় নেতাদের মিথ্যাবাদী বলে অভিহিত করেন।
এই ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। জামায়াত-এ-ইসলামি দল আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে পোস্টের প্রকৃত উৎস উন্মোচন করতে চায়, অন্যদিকে বিএনপি দল পোস্টের সত্যতা ও হ্যাকিংয়ের অস্বীকার করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই বিতর্ক নির্বাচনের পূর্বে উভয় দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের ক্ষতি ঘটাতে পারে। তবে কোনো পক্ষই এখনো স্পষ্টভাবে পোস্টের প্রকৃত উৎস প্রকাশ করেনি।
পরবর্তী সময়ে উভয় দল আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই বিষয়টি সমাধান করার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, নারী অধিকার ও ধর্মীয় ব্যবহার সংক্রান্ত এই বিতর্কের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।



