ঢাকা‑১১ আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, ২ ফেব্রুয়ারি তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, গণজোয়ারে ভয় পেয়ে মাফিয়া গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তার প্রচারমূলক ব্যানার ও বিলবোর্ড ভেঙে ফেলছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই কাজগুলো শাপলাকলির অগ্রযাত্রা থামাতে এবং ভোটারদের সমবেত হওয়া থেকে বিরত রাখতে করা হচ্ছে।
রোববার রাতের ঘটনায়, ঢাকা শহরের ২৩ নং ওয়ার্ডের নূরবাগ মসজিদের পাশে নাহিদ ইসলামের একটি বিলবোর্ড ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি এই ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ব্যানার ও বিলবোর্ড ভাঙা যারা, তারা ভুল পথে আছে এবং গণভোটের স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধা দিতে চাচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, মাফিয়া গোষ্ঠীর এই ভয়ভীতি মূলত গণজোয়ারকে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে, বৃহৎ সংখ্যক ভোটার একত্রিত হলে তার নির্বাচনী প্রচার শক্তিশালী হবে। তিনি আরও জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি বাড্ডা, ভাটারা ও রামপুরা এলাকায় ভোটারদের উপস্থিতি ও ভোটের ফলাফল মাফিয়া গোষ্ঠীর কাজের পরিণতি প্রকাশ করবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, মাফিয়া গোষ্ঠীর এই ধরনের হস্তক্ষেপকে রাজনৈতিক হিংসা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এখনো কোনো গ্রুপের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে ঘটনাগুলোর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা দপ্তর জানিয়েছে, প্রচার সামগ্রী ধ্বংসের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট দলীয় সংগঠন জড়িত কিনা তা নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে অনুমান করা যায়। ভোটের আগে প্রচার সামগ্রী ধ্বংসের ঘটনা বাড়লে, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, ভোটারদের স্বেচ্ছা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়েছে।
নাহিদ ইসলামের এই অভিযোগের ফলে, জাতীয় নাগরিক দল ও তার জোটের অন্যান্য সদস্যরা মাফিয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা দাবি করছেন, ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার অধিকার রক্ষার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
অধিকন্তু, এই ধরনের হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি মাফিয়া গোষ্ঠীর হুমকি অব্যাহত থাকে, তবে তা ভোটার টার্নআউট কমিয়ে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাহিদ ইসলাম ১২ তারিখের নির্বাচনী দিন পর্যন্ত তার প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন এবং ভাঙা ব্যানার ও বিলবোর্ডের ক্ষতিপূরণ চাওয়ার পাশাপাশি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি দাবি করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের সত্যিকারের ইচ্ছা প্রকাশের জন্য স্বচ্ছ ও নির্ভয়ে পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
সামগ্রিকভাবে, ঢাকা‑১১ আসনে মাফিয়া গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের অভিযোগ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভবিষ্যতে, নিরাপত্তা সংস্থার কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই ধরনের হিংসা বন্ধ করা কঠিন হতে পারে। ভোটের দিন নাগরিকদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।



