সোমবার, বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিক্ষোভ মিছিলে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভেরিফায়েড সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টের হ্যাকিংকে “রহস্যজনক” বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যাচাই করা অ্যাকাউন্টের হ্যাকিং স্বল্প সময়ের জন্য ঘটেছে, যা রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রিজভী বলেন, “যেইটা ভেরিফায়েড, সেইটা হ্যাক হয়ে গেল- আবার অল্প সময়ের জন্য। এইটা তো খুব রহস্যজনক।”
বক্তব্যের সময়, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি তুলে ধরতে একটি সমাবেশের আয়োজন করছিল। সমাবেশে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা সরকারী নীতি ও পার্টির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, যার মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সমাবেশের পরেই জামায়াত-এ-ইসলামি আমির ডা. শফিকুর রহমানের নারীদের প্রতি অপমানজনক মন্তব্যের প্রতি রিজভীর তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। রিজভী উল্লেখ করেন, শফিকুর রহমানের মন্তব্য শোনার পর নারীর অধিকার ও ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে এবং ভবিষ্যতে নারীর অবস্থান আরও কঠিন হতে পারে।
রিজভী বলেন, “তাদের কথা শুনলে বুঝা যায়, তারা ক্ষমতা পেলে নারী সমাজের দুর্দিন চলে আসবে।”
এরপর রিজভী বিএনপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের দিকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি মন্ত্রী পদে পৌঁছাতে পারেনি, তবু এখন দলীয় প্রধানের কোনো নারী প্রার্থী থাকবে না বলে ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে নারীর মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করেন।
রিজভী আরও যোগ করেন, “বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আপনারা মন্ত্রী হননি? আর এখন বলেন, দলের প্রধান কোনো নারী হবে না। আপনারা কেন একজন নারীকেও মনোনয়ন দেননি?”
এই মন্তব্যগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, রিজভীর বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি নারীর প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে পুনরায় উত্থাপন করতে চায় এবং পার্টির ভিতরে নারীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনার তীব্রতা বাড়াতে চায়। বিশেষত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে, পার্টির ইমেজ ও ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে নারীর অংশগ্রহণকে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে।
অন্যদিকে, জামায়াত-এ-ইসলামি ও অন্যান্য জোটের নেতারা রিজভীর মন্তব্যকে পার্টির অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখিয়ে, রাজনৈতিক বিরোধের পরিবর্তে নীতি ভিত্তিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে পার্টির নেতৃত্বের কাঠামোতে নারীর অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, রিজভীর মন্তব্য ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের প্রযুক্তিগত দিকের পাশাপাশি নারীর রাজনৈতিক অবস্থান ও পার্টির অভ্যন্তরীণ গঠনকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে। এই বিষয়গুলো নির্বাচনী কৌশল, জনমত গঠন এবং পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।



