লফবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থিত বার্লি কোর্ট হোটেলের ক্যাফে এলাকায় ২৯ জন রেফারি প্রার্থীর একটি দলকে কোর এক্স প্রোগ্রামের অধীনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগটি ২০২৩ সালে চালু হয় এবং ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FA) ও পেশাদার গেম ম্যাচ অফিসিয়ালস (PGMO) এর সমন্বয়ে পরিচালিত, যেখানে বামরেফ নামে একটি সমর্থন গোষ্ঠীও অংশ নেয়।
কোর এক্স প্রোগ্রামটি ঐতিহাসিকভাবে কম প্রতিনিধিত্বকারী জাতিগত গোষ্ঠীর (কালো, এশীয় ও মিশ্র বংশের) রেফারিদের অর্ধ-প্রফেশনাল স্তর থেকে পেশাদার স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখে। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা বর্তমানে পেশাদার গেমের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য কঠোর প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
প্রোগ্রামের নেতৃত্বে ড্যান মিসন, PGMO এর ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর, রেফারির কাজের মূল চাহিদা সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে মাঠে ব্যক্তিত্ব পরিচালনা ও সিদ্ধান্তের স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পারলে রেফারিং কাজ কঠিন হয়ে যায়। তিনি এ কথাটি প্রশিক্ষণ সেশনের সময় উপস্থিতদের সঙ্গে শেয়ার করেন, যাতে ভবিষ্যৎ রেফারিরা এই দক্ষতাগুলোতে পারদর্শী হয়।
বামরেফের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আজি আজিবোলা জানান যে PGMO এই উদ্যোগে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হয়েছে এবং এটি তাদের সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বরকে পেশাদার ফুটবলে পৌঁছে দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা ক্রীড়া জগতে অনন্য এবং ফলাফল ধারাবাহিক করতে আরও প্রচেষ্টা দরকার।
রেফারির ক্যারিয়ার সাধারণত স্তর সাত থেকে শুরু হয়ে স্তর এক পর্যন্ত অগ্রসর হয়, যেখানে প্রতি বছর পদোন্নতির সুযোগ থাকে। স্তর একের উপরে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দুটি বিশেষ গোষ্ঠী রয়েছে: সিলেক্ট গ্রুপ টু এবং সিলেক্ট গ্রুপ ওয়ান। এই গোষ্ঠীগুলোর নির্বাচন FA পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট এবং ক্লাবের মতামতের ভিত্তিতে করা হয়।
PGMO, যা FA, ইংলিশ ফুটবল লীগ এবং প্রিমিয়ার লিগের তহবিলের সমর্থন পায়, স্তর এক এবং উভয় সিলেক্ট গ্রুপের তত্ত্বাবধান করে। স্তর দুই থেকে চার পর্যন্ত FA সরাসরি তত্ত্বাবধান করে, আর স্তর পাঁচ এবং তার নিচের স্তরগুলোকে কাউন্টি FA গুলো পরিচালনা করে। এই কাঠামোটি রেফারির দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে সহায়তা করে।
কোর এক্স প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারীরা বর্তমানে বিভিন্ন ম্যাচে সহায়ক রেফারি হিসেবে কাজ করছেন এবং একইসাথে তত্ত্বাবধায়ক ও বিশ্লেষকদের কাছ থেকে সরাসরি ফিডব্যাক পাচ্ছেন। এই ফিডব্যাকের ভিত্তিতে তাদের পারফরম্যান্সের উন্নতি এবং পরবর্তী স্তরে পদোন্নতির সম্ভাবনা নির্ধারিত হয়।
প্রোগ্রামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল রেফারিদের ব্যক্তিত্ব গঠন ও যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন। প্রশিক্ষণ সেশনে দলগত কাজ, সংঘাত সমাধান এবং সিদ্ধান্তের স্পষ্ট ব্যাখ্যা করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়, যা মাঠে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অপরিহার্য।
বামরেফের প্রতিষ্ঠা ২০১৯ সালে হয় এবং তখন থেকে তারা জাতিগত সংখ্যালঘু রেফারিদের জন্য সমর্থন ও পরামর্শের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। কোর এক্স প্রোগ্রাম তাদের প্রথম বৃহৎ সহযোগিতা, যা FA ও PGMO এর সাথে মিলিত হয়ে রেফারির পেশাদার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
এই উদ্যোগের ফলস্বরূপ, বর্তমানে পেশাদার গেমে প্রবেশ করা রেফারিদের মধ্যে কালো, এশীয় ও মিশ্র বংশের রেফারিদের সংখ্যা মোট রেফারির তিন-চতুর্থাংশের বেশি। এটি পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, যা রেফারির বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সহায়ক।
প্রোগ্রামের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আরও বেশি রেফারিকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদেরকে সিলেক্ট গ্রুপ ওয়ান বা টু তে পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপ প্রদান করা অন্তর্ভুক্ত। এই ধাপগুলো সম্পন্ন হলে রেফারির সংখ্যা ও গুণগত মান উভয়ই উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, কোর এক্স প্রোগ্রাম জাতিগত সংখ্যালঘু রেফারিদের পেশাদার ফুটবলে অগ্রসর করার জন্য একটি কাঠামোগত ও সমন্বিত পদ্ধতি প্রদান করছে। PGMO, FA এবং বামরেফের যৌথ প্রচেষ্টা রেফারির দক্ষতা, বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা ভবিষ্যতে ইংলিশ ফুটবলের সামগ্রিক মানোন্নয়নে অবদান রাখবে।



