সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে আর্থিক উপদেষ্টা সেলাহুদ্দিন আহমেদ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সম্মেলনটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভার্নর আহসান এইচ. মানসুর উপস্থিত ছিলেন।
আহমেদ ব্যাংকারদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মাঝেও পেশাদার মানদণ্ড মেনে চলতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যাংকগুলোকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (SME) সমর্থনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
SME তহবিলের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে, এ কারণেই তিনি ব্যাংকগুলোকে এই সেক্টরে ঋণ প্রদান বাড়াতে নির্দেশ দেন। তদুপরি, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং আর্থিক ও অডিট নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য বলে তিনি জোর দেন।
আহমেদ সোনালী ব্যাংকের আর্থিক শক্তি, শাসনব্যবস্থা, জবাবদিহিতা এবং পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যাংকিং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরও দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ প্রয়োজন।
বাজারে সোনালী ব্যাংকের অবস্থান শক্তিশালী হলেও, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বশীলতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। এই দিকগুলোই ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভার্নর আহসান এইচ. মানসুর মন্তব্যে ব্যাংকারদের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি সতর্কতা ও সাহসিকতার সমন্বয়ে ঋণদানকে উৎসাহিত করার কথা উল্লেখ করেন।
মানসুর ক্যাপিটাল ও প্রভিশনিং ঘাটতি কমিয়ে মুনাফা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। শেষ পর্যন্ত, সরকারকে লভ্যাংশ প্রদান করার সক্ষমতা অর্জন করা লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন। তিনি ব্যাংকের কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও লক্ষ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সম্মেলনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সোনালী ব্যাংকের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের অংশগ্রহণ আলোচনার ব্যাপ্তি ও গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে।
SME তহবিলের সম্প্রসারণ দেশের উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। ব্যাংকগুলো যদি এই সেক্টরে ঋণ প্রদান বাড়ায়, তবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি ঋণ মানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কঠোর অডিট ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
যদি ব্যাংকগুলো আহমেদ ও মানসুর নির্দেশনা মেনে চলতে পারে, তবে সেক্টরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। মুনাফা বৃদ্ধি, ক্যাপিটাল ঘাটতি হ্রাস এবং সরকারকে লভ্যাংশ প্রদান সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং SME সমর্থনের উপর কেন্দ্রীভূত ছিল। এই নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের স্থায়িত্ব ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।



