পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া, সীমান্তবর্তী মহানন্দা নদীর তীরে শীতের কুয়াশা ভাসলেও, স্থানীয় মানুষ ফজরের নামাজের পর বালু ও পাথর তোলার কাজে ব্যস্ত। তেঁতুলিয়া, যা পূর্বে এপার নামে পরিচিত, এখন বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে মহানন্দা নদী দিয়ে ভাগ হয়েছে; অন্য পাশে ভারতের মুড়িখোয়া ও বান্দরঝুলি অবস্থিত। এই অঞ্চল রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’ বাক্যটি পুরো দেশের মানুষকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান জাতীয় নির্বাচনের সময়ও এই নামটি ঘন ঘন শোনা যায়।
তেঁতুলিয়ার জনসংখ্যা দুই ভাগে বিভক্ত; অর্ধেক মানুষ মধ্যবিত্ত গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যারা কোনো ঋণ না নিয়ে সারা বছর জীবিকা নির্বাহ করে। অন্য অর্ধেকের জীবনের মান আর্থিকভাবে অনিশ্চিত, তাদের প্রধান কাজের মধ্যে কৃষি মজুরি, চা বাগানে শ্রমিকের কাজ এবং মহানন্দা নদী থেকে বালু ও পাথর তোলা অন্তর্ভুক্ত। এই তিনটি পেশা স্থানীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
সারদারপাড়া গ্রাম থেকে ৬০ বছরের বেশি বয়সী আজিজুর রহমান, প্রতিদিনের মতোই গতকাল রোবার ভোরে মহানন্দা নদীতে বালু তোলার জন্য নেমে গেছেন। তার দশম শ্রেণির ছেলে বাড়ি থেকে রুটি ও চা নিয়ে এসে তাকে সঙ্গ দিয়েছে। সকাল আটটায় কাজ শুরু করার পর, নির্বাচনের বিষয় উঠে এলে আজিজুর স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি ভোট দেবেন, তবে কোন দলের প্রার্থীকে বেছে নেবেন তা এখনও নির্ধারণ করেননি। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত ও বিএনপি উভয়ের মধ্যে যেকোনো এক দলের প্রার্থীই বেছে নিতে পারেন, কারণ এখনো সময় আছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার।
তেঁতুলিয়া পঞ্চগড়-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা রয়েছে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৫৮,৮০৭, এবং প্রার্থীর সংখ্যা সাতজন। স্থানীয় বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমির এবং এনসিপি প্রার্থী সারজিস আলমের মধ্যে। তবে কিছু ভোটার জাসদ প্রার্থী এবং পূর্বে সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখছেন।
নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমের মাত্রা সীমান্ত অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কম, যা স্থানীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমিয়ে দিয়েছে। তেঁতুলিয়া বাজারে প্রতিদিন তাজা দুধ বিক্রি হয়; বিক্রেতারা বড় বড় প্লাস্টিকের বোতল বা ছোট ক্যানের মাধ্যমে দুধ বিক্রি করে এবং নির্দিষ্ট স্থানে তাদের স্টল থাকে। শনিবার রাত আটটায় দুইজন দুধ বিক্রেতার সঙ্গে আলাপের সময় জানা যায়, তারা বাজারের চাহিদা ও বিক্রয়ের ধরণ সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করেন।
এই নির্বাচনের ফলাফল তেঁতুলিয়া ও আশেপাশের এলাকার রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভোটারদের মধ্যে এখনও সিদ্ধান্তহীনতা রয়েছে, তবে ভোটের সময়সীমা নিকটবর্তী হওয়ায় প্রত্যেকের সিদ্ধান্তের প্রভাব বাড়বে। তেঁতুলিয়া অঞ্চলের সীমান্ত সংযোগ, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও সামাজিক কাঠামোকে বিবেচনা করলে, নির্বাচনের ফলাফল স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো ও সীমান্ত নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, তেঁতুলিয়া অঞ্চলের মানুষ শীতের কঠিন পরিবেশে বালু তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের ভোটের সিদ্ধান্ত কেবল স্থানীয় নয়, বরং জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।



