31 C
Dhaka
Saturday, May 9, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ ব্যাংক সরকার নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি...

বাংলাদেশ ব্যাংক সরকার নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করবে

ইন্টারিম সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই চুক্তিগুলো রপ্তানি বাজারের প্রবেশাধিকার বিস্তৃত করতে এবং LDC (সর্বনিম্ন উন্নত দেশ) মর্যাদা ত্যাগের পর রপ্তানি আয় রক্ষার লক্ষ্য রাখে।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান গতকাল টোকিওতে ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) স্বাক্ষরের নিশ্চিতকরণ দেন। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির ফরম্যাট নিয়ে আলোচনা এখনও চলমান, যা মূলত ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে নির্ধারিত ছিল।

নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি হওয়ায় কাজের দিন সীমিত, ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হতে পারে। এই সম্ভাবনা উভয় পক্ষের সময়সূচি ও নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে উঠে এসেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির মূল বিষয় হল আমেরিকান তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত বাংলাদেশ ব্যাংক গার্মেন্টসের জন্য শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার। প্রস্তাবিত শর্তে রপ্তানিকারকরা যদি তাদের পণ্যের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উপাদান যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহিত বলে প্রমাণ করতে পারে, তবে সেই পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আর আরোপিত হবে না।

মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন যে, বর্তমান ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক হারের থেকে হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট হ্রাসের পরিমাণ এখনও নির্ধারিত হয়নি। এই রকম ছাড়ের আলোচনা বহু মাসের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ফলস্বরূপ এসেছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা স্ক. বশির উদ্দিন এবং মন্ত্রণালয়ের আলোচনাকারী দল এই সপ্তাহে টোকিওতে গিয়ে জাপানের সঙ্গে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই চুক্তি জাপানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরামর্শক পরিষদ ২২ জানুয়ারি EPA অনুমোদন করে, যা নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক LDC মর্যাদা ত্যাগের পর অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার কাঠামো নির্ধারণ করে। এই কাঠামো অনুযায়ী জাপান বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি পণ্যের অধিকাংশের ওপর শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদান করবে।

মাহবুবুর রহমানের মতে, পূর্বে ঘোষিত অনুযায়ী জাপানের সঙ্গে EPA স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুতি সম্পূর্ণ এবং ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে চুক্তি সম্পন্ন হবে। এই স্বাক্ষর বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

চুক্তির অধীনে জাপান ৭,৩৭৯টি পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেবে, যা মোট রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই ব্যাপক সুবিধা গার্মেন্টস, টেক্সটাইল এবং অন্যান্য শিল্পের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

LDC মর্যাদা ত্যাগের পর শুল্ক সুবিধা হ্রাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় এই চুক্তিগুলো রপ্তানি আয় স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার বাড়িয়ে শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

সংক্ষেপে, নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে দুইটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রচেষ্টা সরকারকে আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং রপ্তানি আয় রক্ষায় সহায়তা করবে। ভার্চুয়াল স্বাক্ষরের সম্ভাবনা ও শুল্ক হারের সম্ভাব্য হ্রাস উভয়ই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments