ইন্দোনেশিয়া সরকার ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক্সআইএআই-এর চ্যাটবট গ্রোকের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শর্তসাপেক্ষে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। এই পদক্ষেপটি মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের পরে তৃতীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
গ্রোকের ব্যবহার নিয়ে পূর্বে মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছিল। উভয় দেশই অঅনুমোদিত যৌনচিত্রের ব্যাপক উৎপাদনের পর এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই চিত্রগুলো এক্স (এক্সআইএআই-এর সাবসিডিয়ারি) প্ল্যাটফর্মে তৈরি হয়েছিল।
বিশেষত গ্রোকের মাধ্যমে তৈরি করা চিত্রগুলোতে বাস্তব নারীর ও নাবালকের যৌনায়িত ছবি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ব্যবহারকারীদের সম্মতি ছাড়া তৈরি করা হয়েছিল। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেটের বিশ্লেষণে প্রকাশ পায় যে, ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রোকের সাহায্যে কমপক্ষে ১.৮ মিলিয়ন যৌনায়িত ছবি তৈরি হয়েছে। এই সংখ্যা বিষয়টি কতটা গুরুতর তা স্পষ্ট করে।
ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, এক্স কর্তৃক প্রেরিত একটি চিঠিতে পরিষেবার উন্নতি এবং অপব্যবহার রোধের জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এই চিঠি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
এক্সের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রোকের অ্যালগরিদমে ফিল্টার যোগ করা, ব্যবহারকারী যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং কন্টেন্ট মনিটরিং সিস্টেম উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপগুলোকে যথেষ্ট বলে নিষেধাজ্ঞা শর্তসাপেক্ষে তুলে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
ডিজিটাল স্পেস মনিটরিং বিভাগের পরিচালক জেনারেল অ্যালেক্সান্ডার সাবার বলেন, নিষেধাজ্ঞা শর্তসাপেক্ষে বাতিল করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো নতুন লঙ্ঘন ধরা পড়লে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করা হতে পারে। তিনি এই শর্তকে কঠোর পর্যবেক্ষণের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শর্তসাপেক্ষে বাতিলের অর্থ হল, এক্সআইএআইকে নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলতে হবে; না হলে ইন্দোনেশিয়া আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের অধিকার সংরক্ষণ করেছে। এই নীতি অন্যান্য দেশকে সতর্কতা হিসেবে কাজ করতে পারে।
মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন ২৩ জানুয়ারি একই পদক্ষেপ গ্রহণ করে গ্রোকের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। উভয় দেশের সিদ্ধান্ত ইন্দোনেশিয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
গ্রোকের ডিপফেক প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে, তবে এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ দেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। কিছু দেশ নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা দিয়ে ব্যবহার সীমিত করার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা এক্সআইএআইকে তদন্তের আওতায় নিয়ে আছেন এবং অবিলম্বে অপব্যবহার বন্ধের জন্য একটি সিজ-এন্ড-ডিসেস্ট চিঠি পাঠিয়েছেন। এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রে গ্রোকের ব্যবহারের ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে।
এক্সআইএআই এখন উল্লেখিত শর্তগুলো বাস্তবায়ন করে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও নৈতিক দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি কীভাবে এই ধরনের এআই সেবার ওপর নীতি গড়ে তুলবে তা নজরে থাকবে।



