ফরিদপুর-২ (সালথা‑নগরকান্দা) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু রবিবার রাত ১ ফেব্রুয়ারি সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি গ্রামে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের সামনে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
শামা ওবায়েদ জোর দিয়ে বলেন, ইসলাম একটি উপাসনা বিষয়, যা বিক্রি করা যায় না; পরকালের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার শুধুই আল্লাহর। তিনি উল্লেখ করেন, সত্যিকারের মুসলমানদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রোজা, হজ ইত্যাদি পালন করা উচিত, তবে কেউই জানে কে জান্নাতে যাবে আর কে দোজখে যাবে, তাই গ্যারান্টি দেওয়া কোনো ভিত্তি নেই। এ ধরনের গ্যারান্টি প্রদানকারীকে তিনি নাফরমানি কাজের সমালোচনা করেন।
প্রার্থী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্বকে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের মূল মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই ভোটের ফলাফল আগামী দিনের বাংলাদেশ ও নতুন প্রজন্মের জন্য সালথা উপজেলার উন্নয়ন দিক নির্ধারণ করবে। সকল ভোটারকে স্বাধীন, স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি রক্ষা পায়।
বিএনপি-র প্রতীক ধানের শীষের প্রতি ভোটারদের সমর্থন বাড়াতে দলীয় নেতৃত্বের ওপর দায়িত্ব আরোপ করেন। গ্রামীণ নেতাদের নির্দেশ দেন, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের সর্বোচ্চ ভোট নিশ্চিত করতে ঘরে ঘরে ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। সময়ের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড বা নম্বর চাওয়া অবৈধ কাজ বলে সতর্ক করেন এবং এমন কোনো অনুরোধের সম্মুখীন হলে সেনাবাহিনী বা পুলিশের কাছে জানাতে আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেন, সালথা ও নগরকান্দা এলাকায় মানসম্মত হাসপাতালের অভাব রয়েছে। বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের দিকে উন্নীত করে কম খরচে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা উচিত। এছাড়া, একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যা স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
প্রার্থী তার সমর্থকদের প্রতি প্রতিশ্রুতি জানান, তারা শহীদ জিয়ার সৈনিকের মতো জনগণের পাশে থাকবে এবং মনোযোগ দিয়ে ভোট সংগ্রহ করবে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, এক ভোটের মাধ্যমে বহু কাজের সূচনা সম্ভব হবে।
বিএনপি-র ৩১ নম্বর দফা সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তবে প্রতিটি পরিবারকে মায়ের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে, যা সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন বাড়াবে।
শামা ওবায়েদের বক্তব্যের পর স্থানীয় কিছু নেতার কাছ থেকে ভোটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়। তবে কোনো বিরোধী দলের সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শামা ওবায়েদের ধর্মীয় ও উন্নয়নমূলক বিষয়ের সমন্বয়পূর্ণ ভাষণ ভোটারদের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতি ও মৌলিক সেবা চাহিদা উভয়ই জাগিয়ে তুলতে পারে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম রাউন্ড, এবং ফলাফল ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের ভিত্তি হবে। শামা ওবায়েদের মতামত ও প্রতিশ্রুতি ভোটারদের সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।
এই সভা শামা ওবায়েদের নির্বাচনী প্রচারণার একটি অংশ, যেখানে তিনি ধর্মীয় নীতি, ভোটার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একত্রে তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল ভোটারদের মধ্যে বিশ্বাস জাগিয়ে তোলা এবং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি-র সমর্থন বাড়ানো।



