চট্টগ্রাম বন্দর আজ তৃতীয় ধারাবাহিক দিনে আট ঘণ্টা কাজ বন্ধের ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক ও কর্মচারীরা সকাল আটটায় কাজ থেকে বিরত হয়ে নতুন মোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (NCT)কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের DP World-কে লিজে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
ধর্মঘটের ফলে সকাল আটটার পর থেকে বেশ কয়েকটি জেটিতে কন্টেইনার ও অন্যান্য পণ্যের লোডিং‑আনলোডিং প্রায় সম্পূর্ণ থেমে গেছে। জাহাজ থেকে পণ্য তোলার কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বন্দর ব্যবহারকারীরা সরবরাহে বিলম্বের মুখোমুখি।
বন্দরের গুদাম থেকে পণ্য সরবরাহও বন্ধ হয়ে আছে, এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও ১৯টি বেসরকারি ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোয়ের মধ্যে কন্টেইনার পরিবহনও ধর্মঘটের কারণে থেমে গেছে। এই পরিস্থিতি বাণিজ্যিক লেনদেনের গতি ধীর করে তুলেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (CPA) ধর্মঘটকে ‘অন্যায্য’ বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে যে NCT লিজ সংক্রান্ত কোনো চুক্তি এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি। লিজের বিষয়ে সরকারী সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তা কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে।
গত রাত্রি CPA দুই ধাপে মোট ১২ জন কর্মীর স্থানান্তরের আদেশ জারি করে, যার ফলে মোট স্থানান্তরিত কর্মীর সংখ্যা ১৬-এ পৌঁছেছে। স্থানান্তরিত কর্মীদের মধ্যে ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত বলে কর্মীরা দাবি করে।
প্রতিবাদকারীরা এই স্থানান্তরকে আন্দোলনকে দুর্বল করার কৌশল হিসেবে দেখছে। শ্রমিক দল স্রামিক দাল একটি নেতার মতে, CPA প্রায় ২০০ জন কর্মীর নামের তালিকা তৈরি করে ধীরে ধীরে তাদের স্থানান্তর করে আন্দোলনের প্রভাব কমাতে চাচ্ছে।
স্থানান্তরকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, যদিও CPA-র প্রশাসনিক পরিচালক মো. ওমর ফারুক জোর দিয়ে বলেন যে এই পদক্ষেপগুলো স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং ধর্মঘটের সঙ্গে কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ধারাবাহিক কাজ বন্ধ বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য লজিস্টিক্স খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং পণ্যের সময়মত সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে রপ্তানি-আমদানি সংস্থাগুলোকে বিকল্প রুট বা অতিরিক্ত সংরক্ষণ খরচ বহন করতে হচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যদি ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হয়, তবে বন্দর কার্যক্রমে আরও বড় ধাক্কা লাগতে পারে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং লাইন এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক অংশীদারদের মধ্যে বিশ্বাসের ক্ষতি ঘটাতে পারে। সরকার ও DP World-র মধ্যে লিজ চুক্তি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি না হলে, বাণিজ্যিক পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়বে এবং সম্ভাব্য আইনি বিরোধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সংক্ষেপে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্মীদের ধর্মঘট বাণিজ্যিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছে, স্থানান্তর ও লিজ সংক্রান্ত বিতর্ক বাড়িয়ে তুলেছে, এবং ভবিষ্যতে সমঝোতা না হলে বন্দর কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি ও বাজারের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।



